এআই দৌড়ে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নয়, ভিন্ন পথেই এগোচ্ছে চীন
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নেতৃত্ব নিয়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে, তখন বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন আসলে যুক্তরাষ্ট্রকে…
মেলবোর্ন, ১২ অক্টোবর: আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সামরিক ঘাঁটি বাগরাম এয়ারবেস ফেরত নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান, ইরান, চীন ও রাশিয়া।
ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, “বাগরাম ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান পুনর্গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান ঠেকাতে আমাদের সেখানে উপস্থিতি প্রয়োজন।”
তিনি আরও জানান, আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঘাঁটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা চলছে।
তবে এই উদ্যোগকে “অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি” হিসেবে দেখছে প্রতিবেশী দেশগুলো।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি এক বিবৃতিতে বলেন, “আফগানিস্তানের মাটিতে নতুন করে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করবে। আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষাই এখন সবচেয়ে জরুরি।”
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ট্রাম্পের প্রস্তাবকে “অযৌক্তিক ও উসকানিমূলক” আখ্যা দিয়েছেন। ইসলামাবাদ মনে করে, আফগান মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় অবস্থান তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
ইরান সরকারও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে তারা “অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা” হিসেবে দেখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের চার বছর পর আবার সেখানে সামরিক উপস্থিতি স্থাপনের পরিকল্পনা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য পাল্টে দিতে পারে। চীন ও রাশিয়া ইতিমধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “আফগানিস্তানে শান্তি কেবল আফগান জনগণই নিশ্চিত করতে পারে, বিদেশি সেনা নয়।”
অন্যদিকে আফগান সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা এখন পুনর্গঠনের পর্যায়ে আছি। আমাদের দেশে নতুন করে কোনো বিদেশি ঘাঁটি স্থাপনের প্রয়োজন নেই।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির নতুন কৌশলগত মোড়, যা এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।
সুত্রঃ আল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au