মেলবোর্ন, ১৮ অক্টোবর- মাদাগাস্কারে বিতর্কিত পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনা দেশে ত্যাগ করার পর সেনা কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর উচ্চমানের এক ইউনিট ক্যাপস্যাটের (CAPSAT) কমান্ডার র্যান্ড্রিয়ানিরিনা চলমান বিক্ষোভ ও সামরিক পদক্ষেপের পর ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স প্রথমে দিয়েছে খবর।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুবক-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন মুখর হয়ে ওঠে; দেশের গরিবত্ব, দুর্বল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বৃৎতান্তিক বিক্ষোভ ছড়ায়। আগুন-যোগে সংঘর্ষ ও সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ আন্দোলন দ্রুত সামরিক একজোরতার দিকে ধাবিত করে।
গত কয়েক দিনের মধ্যে সেনাবাহিনীর একাংশ হঠাৎ রাজোয়েলিনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়; আদালত ও আইন-প্রণালীকে পাশ কাটিয়ে সেনা দখলে নেয়। পরে রাজোয়েলিনা দেশ ছেড়ে পালান তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী আইনপ্রণেতারা তাকে অভিশংসিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে বলে জানা গেছে।
উপরের প্রক্রিয়ার পর কর্নেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা শপথ গ্রহণ করেন এবং নিজের নেতৃত্বে একটি সামরিক-মুখী “সংকটকালীন” প্রশাসন গঠন ও দু’বছর পর্যন্ত রাজনৈতিক রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন।
র্যান্ড্রিয়ানিরিনা, যিনি শপথগ্রহণে সামরিক কর্মীবাহিনী ছাড়া সাধারণ পোশাকে উপস্থিত ছিলেন, তিনি জাতীয় ঐক্য, নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন দেশকে একটি “ট্রানজিশনাল প্রশাসনের মাধ্যমে” কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচনের পথে নিয়ে যাওয়া হবে স্থানীয় সূত্র বলছে সেই সময়সীমা সর্বোচ্চ দুই বছর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে ওই সামরিক হস্তক্ষেপকে অনৈস্টিকালি চিহ্নিত করা হয়েছে; জাতিসংঘ সাধারণ সম্পাদক আন্তোনিও গুতেরেস দমনের কথা বলেছেন এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন মাদাগাস্কারকে সাময়িকভাবে সদস্যপদ থেকে স্থগিত করেছে।বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সরকারকে সংবিধানগত শাসনে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত তদন্তের দাবি তুলেছে।
শহরের কিছু অংশে নতুন নেতৃত্বের শপথকে স্বাগত জানিয়ে উৎসব-মেজাজ দেখা গেছে; তবে বিক্ষোভকারী তরুণেরা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সন্দিহান তারা বলছেন, সামরিক নেতৃত্ব কি বাস্তবে গণতান্ত্রিক সংস্কার ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থ-সামাজিক দাবি পূরণ করবে কি না তা অনিশ্চিত। অতিরিক্তভাবে, গত কয়েক সপ্তাহে সংঘটিত সহিংসতায় প্রচুর নিহত-আহত ও বাড়তি ক্ষতি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
মাদাগাস্কার দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্য, দুর্নীতি, পর্যাপ্ত পরিষেবা-অপ্রতুলতা ও যুবসমাজের বেকারত্বের সমস্যায় জর্জরিত। ২০০৯ সালে রাজোয়েলিনা প্রথমবার ক্ষমতা দখল করেছিলেন; এরপরো দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। বর্তমান বিদ্রোহ ও সামরিক হস্তক্ষেপকে অনেক বিশ্লেষক এই দীর্ঘস্থায়ী প্রেক্ষাপটেরই ফল হিসেবে দেখছেন।
মাদাগাস্কারে গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভ ও সেনা হস্তক্ষেপের পর কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিরিনা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন; তবে এর বৈধতা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথে ফেরার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিতর্ক চলছে। জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের তিব্র প্রতিক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা এসব মিলিয়ে মাদাগাস্কার এখন একটি নাজুক রাজনৈতিক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সুত্রঃ এএফপি