মেলবোর্ন, ১৯ অক্টোবর- গাজা সিটির Zeitoun পল্লীতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সংঘটিত ঘটনা-সংবাদসংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, এক সিভিলিয়ান গাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র/ট্যাংক শেল লেগে একই পরিবারের ১১ সদস্য নিহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে সাত শিশু এবং কয়েকজন নারী রয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, নিহতরা (খবর সূত্রগুলোতে পরিবারটির নাম ‘আবু শাবান’ বা ‘শাাবান’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে) একটি গাড়িতে করে Zeitoun এলাকায় চলাচলকালে ওই জায়গার কাছে পৌঁছানোর পর ট্যাংক কিংবা গুলির লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আঘাত হানো হয়। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা “হলুদ লাইন” (যে সীমারেখা সম্মতির অংশ হিসেবে নির্ধারিত) পার করার কিছুক্ষণ পরেই গোলা লেগে নিহত হন; স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে আগাম সতর্কবার্তা বা অন্য কোনো নোটিস না দিয়ে গাড়িটিকে লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়েছে।
ইস্রায়েলি সামরিক সূত্র (IDF) দাবি করেছে যে তাদের সামরিকরা ওই এলাকায় অবস্থানরত ছিল এবং যে গাড়িটি তাদের কাছে এসেছিল তা “কমান্ড পোস্টের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি” হিসেবে দেখা হয়েছিল; স্থানীয় সেনারা সতর্কবার্তা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন এবং পরে লক্ষ্যভেদ করা হয়েছে-তবে সূত্রগুলোতে ঘটনার ন্যায্যতা নিয়ে ভেদাভেদ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আইডিএফ বলেন তারা গুলির আগে সতর্কতা জানিয়েছিল।
স্থানীয় মানবিক সংস্থা ও গাজার কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের এই হামলাকে “সঙ্ঘবদ্ধ শত্রুতা” বা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা ও অধিকাংশ গণমাধ্যম এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক নরমালাইজড যুদ্ধবিরতির মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক এক লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
কয়েক দিনের আগেই একটি আমল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় আনা শর্তে অনশ্চিত বিরতি/সশর্ত বৈরতি চালু হয়েছিল, কিন্তু বিভিন্ন পক্ষ উভয়ই একে অপরকে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ আনে গাজার কর্তৃপক্ষ বলছে বিরতির বাস্তবায়ন সত্ত্বেও ইসরায়েলীয় বাহিনী বারবার লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলে সশস্ত্র ও বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এক সংবাদে সেই লঙ্ঘনগুলোর পরিসংখ্যান ও তাদের দাবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্ত দাবি উঠেছে-জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন ও আশেপাশের দেশগুলোরা দ্রুত প্রামাণ্য তদন্তের আহ্বান জানাতে পারে এবং ত্রাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে নতুন চাপ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনাগুলো পারস্পরিক বিশ্বাসহীনতাকে আরও জোরালো করবে, যা পরবর্তী বৈঠক ও আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে।
সুত্রঃ Times of Israel