কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়েছে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, কাঁচামাল ও রপ্তানির নমুনা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ অক্টোবর- ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়েছে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, কাঁচামাল ও রপ্তানির নমুনা। এতে পোশাক রপ্তানিখাত প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার বিকেলে কার্গোর আমদানি অংশে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্টোরেজ এলাকায়, যেখানে রপ্তানিকারকদের কাঁচামাল, পোশাক ও নমুনা সংরক্ষিত ছিল। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখতে গিয়ে বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, পুরো আমদানি অংশটাই ছাই হয়ে গেছে। তার আশঙ্কা, ক্ষতির পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
রোববারও পুড়ে যাওয়া ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া উঠছিল। ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং আগুনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কার্গো ভিলেজটি দেশের ব্যস্ততম লজিস্টিক কেন্দ্রগুলোর একটি। প্রতিদিন এখানে ৬০০ মেট্রিক টনের বেশি কার্গো হ্যান্ডলিং হয়। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়টিকে রপ্তানির পিক সিজন ধরা হয়, যখন এই চাপ প্রায় দ্বিগুণ হয়। এমন সময় এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে জানান পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা।
বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, এখানে যে পণ্যগুলো নষ্ট হয়েছে তার মধ্যে জরুরি এয়ার শিপমেন্টের কাঁচামাল, তৈরি পোশাক এবং অর্ডারের নমুনাও ছিল। এসব নমুনা নতুন ক্রেতা নিশ্চিত করা এবং অর্ডার বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হারিয়ে গেলে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ব্যবসা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি বলেন, প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই শত কারখানা বিমানপথে পণ্য পাঠায়। ফলে এই অগ্নিকাণ্ডের আর্থিক প্রভাব অনেক বড়।
আগুনের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সপ্তাহে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় বড় অগ্নিকাণ্ড। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকায় একটি পোশাক কারখানা ও কেমিক্যাল গুদামে আগুনে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের সাততলা একটি গার্মেন্টস ভবনও আগুনে পুড়ে যায়।
সরকার জানিয়েছে, সব ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনমনে আতঙ্ক না ছড়াতে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এ খাত থেকে বছরে ৪৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হয়। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এই খাতে কাজ করেন এবং দেশের মোট জিডিপির এক-দশমাংশের বেশি আসে পোশাক শিল্প থেকে। বিমানবন্দরের এই অগ্নিকাণ্ড রপ্তানি বিলম্বিত করবে এবং সময়মতো আন্তর্জাতিক অর্ডার পৌঁছানো কঠিন করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।