ভারত ও বাংলাদেশের পতাকা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২১ অক্টোবর- ভারতের সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে করা ১০টি চুক্তি ও প্রকল্প বাতিল হয়েছে বলে দাবি করেছেন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ (সজীব ভূঁইয়া)। তবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে আসিফ দাবি করেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০টি চুক্তি বা প্রকল্প বাতিল হয়েছে এবং আরও কয়েকটি চুক্তি পুনর্বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে। তিনি এসব চুক্তির একটি তালিকাও প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সোমবার (২০ অক্টোবর) রাতে সাংবাদিকরা এই বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “এ নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না।”
ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ যে তালিকা প্রকাশ করেছেন, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে—
ভারতের সঙ্গে বাতিল চুক্তি বা প্রকল্প:
১. ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম রেল সংযোগ প্রকল্প
২. অভয়পুর–আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ
৩. আশুগঞ্জ–আগরতলা করিডোর
৪. ফেনী নদী পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প
৫. বন্দরের ব্যবহারসংক্রান্ত সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি
৬. ফারাক্কাবাদ প্রকল্পে বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তা প্রস্তাব
৭. সিলেট–শিলচর রেল সংযোগ প্রকল্প
৮. পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ চুক্তি
৯. ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (মিরসরাই ও মোংলা)
১০. ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান জিআরএসই-এর সঙ্গে ট্যাগ বোট ক্রয় চুক্তি
স্থগিত বা পুনর্বিবেচনাধীন প্রকল্প ও চুক্তি:
কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন প্রকল্প (স্থগিত)
আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি (পুনর্বিবেচনায়)
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি (নবায়ন বা পুনর্বিবেচনা পর্যায়ে)
তিস্তা নদী পানি বণ্টন চুক্তি (খসড়া অবস্থায়, আলোচনায়)
এখন পর্যন্ত সরকারের কোনও সংস্থা বা মন্ত্রণালয় থেকে এসব চুক্তি বাতিল বা স্থগিতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য না করায় বিষয়টি আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, সরকার যদি সত্যিই এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত।
এদিকে ফেসবুক পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কেউ এটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, কেউ আবার বলছেন, পররাষ্ট্রনীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ না করে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।