সমীক্ষাকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বললেন মমতা, ভোটের ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল
মেলবোর্ন, ১ মে- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বুথফেরত সমীক্ষা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ২৭ অক্টোবর- চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার পাঠানিয়াগোদা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মধ্যরাতে একটি দল গড়ে এক হৃদরোগী ব্যক্তিকে জোরপূর্বক ঘর থেকে তুলে পুলিশে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে। ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান নামের ওই ব্যক্তি পেশায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক এবং দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। তার হৃদয়ে আছে তিনটি রিং।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এনসিপির যুব সংগঠন ‘যুবশক্তি চট্টগ্রাম মহানগর’-এর যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ সজীব ভুঁইয়ার নেতৃত্বে প্রায় ১৫-২০ জন আনিসুর রহমানের বাসার সামনে জড়ো হয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখান। এরপর তারা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত আনিসকে জোর করে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসেন। পরিস্থিতি সামলাতে পরিবারের সদস্যরা চেষ্টা করলেও এনসিপি নেতারা পুলিশে খবর দেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওসি জাহেদুল কবিরের নেতৃত্বে চান্দগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনিসকে আটকের পর থানায় নিয়ে যায়। এনসিপির পক্ষ থেকে তখন দাবি করা হয়, তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এবং ‘বিরোধী’ পক্ষের ব্যক্তি।
পরিবারের অভিযোগ, আনিসকে থানায় নেওয়ার পর এনসিপির কয়েকজন নেতা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেন, যদি ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়, তাহলে মামলা থেকে রেহাই দেওয়া হবে এবং তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। পরে এই অঙ্ক কমিয়ে ৬ লাখ টাকার দাবি করা হলেও পরিবার টাকা দিতে রাজি হয়নি। এর পরদিন শনিবার আনিসুর রহমানকে একটি হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
আনিসের স্ত্রী বিবি মরিয়ম বলেন, “আমার স্বামী হার্টের রোগী। তার শরীরে তিনটি রিং বসানো। আমরা সবকিছু জানালেও কেউ শোনেনি। তাকে রাতের অন্ধকারে ধরে নিয়ে গিয়ে কারাগারে পাঠানো হলো।”
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এভাবে মব সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাদের কথায় একটি নির্দিষ্ট সময়ও দেওয়া হয় টাকা জোগাড় করার জন্য, কিন্তু টাকা না দেওয়ায় রাতেই পুলিশ ডেকে এনে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিএনপির কয়েকজন নেতা পুলিশকে ফোন করে আনিসের নিরপরাধ হওয়ার কথা জানালেও সেটি গুরুত্ব পায়নি। বরং এনসিপি নেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত করে।
এদিকে এনসিপি নেতা মোহাম্মদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা শুধু পুলিশকে জানিয়েছি যে তিনি বাসায় আছেন। টাকা দাবি বা আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাঁচ আগস্টের পর থেকে এনসিপি পরিচয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের মব গঠন, চাঁদা দাবি, চাঁদা না দিলে পুলিশে দেওয়া এমন ঘটনা বাড়ছে। ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ব্যক্তিরাও এর শিকার হয়েছেন। অনেক ঘটনার ভিডিও আগেও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, কিন্তু এখনো তেমন কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
চান্দগাঁও থানার ওসি জাহেদুল কবির বলেন, “পুলিশ না গেলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত। তাই আমরা গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসি।”
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কেউ অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে কিন্তু রাজনৈতিক ব্যানার ব্যবহার করে মব তৈরি ও নিরপরাধ মানুষকে হেনস্তা করার ঘটনা উদ্বেগজনক এবং এটি মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
সুত্রঃ যুগান্তর
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au