সমীক্ষাকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বললেন মমতা, ভোটের ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল
মেলবোর্ন, ১ মে- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বুথফেরত সমীক্ষা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ২৮ অক্টোবর- মানিকগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর এক সমন্বয় সভায় তীব্র বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। সভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ওমর ফারুক এক পর্যায়ে মুখোমুখি তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ শহরের সিটি ড্রিম হোটেল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় সমন্বয় সভায়। সভায় এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভার একপর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মানিকগঞ্জ জেলার সাবেক আহ্বায়ক ওমর ফারুক অভিযোগ তোলেন যে সভার মঞ্চে “নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও জামায়াতের নেতা” উপস্থিত আছেন।
তিনি বলেন, “এখানে এনসিপির প্রোগ্রাম, কিন্তু ছাত্রলীগের দালাল আর জামায়াতের লোকজন কেন মঞ্চে?”
তার এমন মন্তব্যে সভাকক্ষে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তরে সারজিস আলম চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলেন,
“আপনার কথা পরে শুনব, আপনি সভার পরে কথা বলেন।”
কিন্তু ওমর ফারুক পাল্টা জবাবে বলেন, “আমরা এখানকার স্টেকহোল্ডার। তাহলে এনসিপির সভায় ছাত্রলীগ ও জামায়াতের লোক কেন?”
এরপর সারজিস আলম ক্ষুব্ধভাবে জবাব দেন, “জামায়াতের কেউ কি এনসিপি করতে পারবে না? মনে হচ্ছে, সমস্যা আপনার।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারজিস আলম পরে ওমর ফারুককে সভাকক্ষের এক পাশে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কথাকাটাকাটি আরও তীব্র হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুজনের মধ্যে উচ্চস্বরে বাকবিনিময় চলতে থাকে, এবং সারজিস আলম তখন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “ক্যামেরা বন্ধ করুন।”
এই নির্দেশে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিবাদ দেখা দেয়। অনেকে বলেন, প্রকাশ্য সভায় সংবাদমাধ্যমকে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী। ফলে হলরুমে আরও কিছুক্ষণ উত্তেজনা তৈরি হয়।
বিতর্ক শেষে ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন,
“যখন তাদের আমাদের দরকার হয়, তখন ডাকে; কিন্তু পরে মঞ্চে দালালদের জায়গা দেয়। এতে আমরা অপমানিত বোধ করি।”
তিনি আরও জানান, এনসিপির মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঐক্য জোরদার করা, কিন্তু “মঞ্চে বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের” উপস্থিতি তা ব্যাহত করেছে।
এ বিষয়ে সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে। আমরা সবাই একসাথে কাজ করতে চাই, তবে সভার শৃঙ্খলা বজায় রাখাটা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, এনসিপি কোনো দলীয় বিভাজন চায় না, বরং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে জনগণের দাবি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
পরে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে সভার পরিস্থিতি শান্ত হয়। সভা নির্ধারিত সময়ের কিছু পর পুনরায় শুরু করা হয় এবং উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au