ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন ২৯ অক্টোবর: অস্ট্রেলিয়ার নাম ভাঙিয়ে নতুন ধরনের ভিসা প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েছে একাধিক চক্র। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তারা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতারকদের মূল টার্গেট বিদেশে কাজের স্বপ্ন দেখা যুবক ও মধ্যপ্রাচ্যফেরত স্বল্পশিক্ষিত শ্রমিকরা।
অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্কিং হলিডে (Subclass 417) ও ই-ভিজিটর (Subclass 651) এই দুই ধরনের ভিসায় বাংলাদেশিদের নাম নেই। এই ভিসাগুলো শুধুমাত্র কানাডা, যুক্তরাজ্য, জাপান, নরওয়ে, সুইডেনসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ। কিন্তু বাংলাদেশে কিছু প্রতারক চক্র ডিজিটাল কৌশলে ভুয়া ভিসা তৈরি করে দিচ্ছে, যা প্রথম দেখায় একেবারেই আসল মনে হয়।
প্রতারকরা অস্ট্রেলিয়ার সরকারি অনলাইন ভিসা পোর্টাল ImmiAccount ব্যবহার করে আবেদনকারীর প্রকৃত তথ্য দিয়ে আবেদন করে, তবে ‘Country of Passport’ অংশে বাংলাদেশের পরিবর্তে অনুমোদিত কোনো দেশের নাম বসায়। এতে সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা অনুমোদন চলে আসে। পরে তারা ‘ভুল তথ্য সংশোধন’ অপশন ব্যবহার করে আবার আবেদনকারীর পাসপোর্ট তথ্য বদলে দেয়, ফলে সরকারি ভিসা যাচাই সাইট VEVO-তেও তা বৈধ বলে দেখায়।
এরপর প্রতারকরা বলে, অস্ট্রেলিয়া যেতে হলে আগে নেপাল, মালদ্বীপ বা ইন্দোনেশিয়ায় যেতে হবে কারণ বাংলাদেশ থেকে নাকি সরাসরি ফ্লাইট নেই। সেখানে পৌঁছানোর পরই ধরা পড়ে আসল সত্য, ভিসাটি ভুয়া! অনেকেই তখন বিদেশে আটকা পড়েন, আর প্রতারক চক্র নিয়ে যায় লাখ লাখ টাকা।
ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা বিন্দু রায় নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রায় তিন বছর ধরে এক প্রতারক চক্র তাকে অস্ট্রেলিয়ায় কাজের সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে আসছে।
তিনি জানান,
“আমি গত ২৫ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছি। এর আগে কখনো কোনো প্রতারণার শিকার হইনি। কিন্তু এবার তারা এমনভাবে প্রতারণা করেছে যে, সবকিছুই বাস্তব বলে মনে হয়েছিল।”
বিন্দু রায় বলেন, ওই চক্রের সদস্যরা তাঁর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রায় ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। শুধু তিনিই নন, তাঁর সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি একই প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। সবার কাছ থেকেই প্রতারকরা অস্ট্রেলিয়ার ভুয়া ভিসা দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছে। তাদের একেকজনের কাছ থেকে পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ করে টাকা নিয়েছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ভিসা কাগজ, বায়োমেট্রিক, এমনকি স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যন্ত সবকিছু তারা এমনভাবে করছে যা দেখে বুঝার কোন উপায় নাই যে তারা জালিয়াতি করছে।“
অভিবাসন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের ওয়ার্কিং হলিডে বা ই-ভিজিটর ভিসা দেয় না। বাংলাদেশিরা সাধারণত ভিজিটর ভিসা (Subclass 600) বা টেম্পোরারি স্কিলড সর্টেজ ভিসা (Subclass 482) ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারেন। কিন্তু এই ভিসার জন্য ইংরেজিতে দক্ষতা, আইইএলটিএস স্কোর এবং পেশাগত যোগ্যতার প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক।
অস্ট্রেলিয়ার অনুমোদিত ভিসা প্রসেসিং সেন্টার VFS Global ও নির্ধারিত তিনটি ক্লিনিক ছাড়া অন্য কোথাও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও প্রতারণার লক্ষণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, মেলটন মাইগ্রেশনের পরিচালক জনাব কামাল উদ্দিন।
অভিবাসন আইনি পরামর্শক এবং বিশেষজ্ঞ, মেলটন মাইগ্রেশনের পরিচালক জনাব কামাল উদ্দিন বলেন,
“অস্ট্রেলিয়ার ভিসা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইস্যু হয়। কোনো এজেন্ট বা দালালের মাধ্যমে কম খরচে দ্রুত ভিসা পাওয়া সম্ভব নয়। এই ধরনের প্রতিশ্রুতি মানেই প্রতারণা।”
তিনি আরও বলেন, “যে কেউ যদি বলে আগে ভিসা পরে টাকা তখনই সতর্ক হন। কারণ, বৈধ কোনো অভিবাসন আইনজীবী বা এজেন্ট এমনভাবে কাজ করে না।”
অস্ট্রেলিয়া থেকে টাকার বিনিময়ে কোন স্পন্সর দেওয়া হয় না বলে তিনি যোগ করেন। তিনি বলেন প্রতিদিন তাদের কাছে কম বেশি এই জ্বালিয়েতির অভিযোগ আসছে। এই জালিয়াতিদের চক্র থেকে সবাইকে সাবধান থাকার পরামর্শ দেন কামাল উদ্দিন।
বাংলাদেশ থেকে ঠিক কতজন এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তার সরকারি কোনো হিসাব নেই। তবে অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, গত এক বছরে অন্তত কয়েকশ মানুষ ভুয়া অস্ট্রেলিয়ান ভিসার ফাঁদে পড়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ইতিমধ্যে ভুয়া ভিসা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ পেয়েছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au