হোয়াইট হাউস, ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৩০ অক্টোবর- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১২১ দিনের মধ্যে শুল্ক আরোপ ও পাল্টা পদক্ষেপের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিতিশীল করেছেন। শুল্কের সরাসরি খরচ বহন করেছেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, শেষ পর্যন্ত চাপ পড়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর।
শুল্ক হলো আমদানি পণ্যের ওপর সরকার আরোপিত কর। ওয়ালমার্টের মতো আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিদেশি প্রস্তুতকারকের পণ্য আমদানি করার সময় এই শুল্কের অর্থ ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টে জমা দেয়। কোম্পানি শুল্ক সামলাতে পারে মূল্যের বৃদ্ধি, লাভ কমানো বা প্রস্তুতকারকের সঙ্গে দর কষাকষি করে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প, ছবি: রয়টার্স
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, শুল্ক বিদেশি কোম্পানিকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাধ্য করবে, ফলে দেশি কর্মসংস্থান ও মজুরি বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্বও বাড়বে, যা কর কমানো বা বিভিন্ন ব্যয় সামলাতে ব্যবহার করা যাবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুল্কের প্রভাব জটিল। আমদানির ওপর নির্ভরশীল শিল্পের জন্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। শুল্কের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর পড়ে, ফলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়।
জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি ২০২৫: শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করা হয়। এরপর কলম্বিয়া ও চীনের ওপর শুল্ক আরোপ, পাল্টা ও হুমকিসহ আন্তর্জাতিক উত্তেজনা শুরু হয়।
মার্চ–এপ্রিল ২০২৫: কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর হয়। চীনের ওপর সর্বাধিক ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক স্থগিত রাখা হয়। গাড়ি উৎপাদকদের ওপর শুল্ক নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হয়।
মে–জুলাই ২০২৫:চীনের ওপর সর্বোচ্চ শুল্ক কমানো হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মেক্সিকোর ওপর শুল্ক স্থগিত ও হ্রাসের সুযোগ দেওয়া হয়। ইস্পাতের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। ভারত, বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের ওপর নতুন শুল্ক হার ঘোষণা করা হয়।
১ আগস্ট ২০২৫:৬৭ দেশের ওপর নতুন শুল্ক হার কার্যকর হয়, যা ১০–৪১ শতাংশ পর্যন্ত। ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্যেও ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়।
শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি আয় বেড়েছে, যা ফেডারেল আয়ের প্রায় ৫ শতাংশ। তবে সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস ও পোশাক খাতে। আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশগুলো শুল্ক ও পাল্টা শুল্কের কারণে অস্থির।
ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল আমদানি কমানো, দেশি উৎপাদন উৎসাহিত করা ও রাজস্ব বৃদ্ধি। তবে এই নীতির কারণে কিছু শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি শুধু অর্থনীতিকেই প্রভাবিত করেনি, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপও তৈরি করেছে। আমদানিকারক ও ভোক্তার জন্য খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশগুলো শুল্কের প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হয়েছে। কিছু চুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক হ্রাস করা হলেও, বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা এখনো রয়ে গেছে।