সমীক্ষাকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বললেন মমতা, ভোটের ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল
মেলবোর্ন, ১ মে- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বুথফেরত সমীক্ষা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ৩১ অক্টোবর- দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বড় এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা। সিএনএন-নিউজ১৮–এর বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তান গোপনে ঢাকায় তাদের হাইকমিশনের ভেতরে ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)–এর একটি বিশেষ সেল বা ঘাঁটি স্থাপন করেছে।
ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা একে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে বর্ণনা করছেন, কারণ এটি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের (২০২৪) পর থেকে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে, যা ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা এবং বাংলাদেশের সেনা নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতা এখন আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে, বিশেষত নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে।
ঢাকায় পাকিস্তানের আইএসআই সেল: কী জানা গেছে
সিএনএন-নিউজ১৮ জানায়, পাকিস্তানের যৌথ চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জার চার দিনের ঢাকা সফরের পর আইএসআই সেলটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই সফরে তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে আসা ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের মধ্যে একজন মেজর জেনারেলসহ আইএসআই, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছিলেন।
তারা বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই) ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)–এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।
উভয় পক্ষ যৌথ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হবে বঙ্গোপসাগর ও ভারতের পূর্ব সীমান্তের আকাশপথ পর্যবেক্ষণ।
এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তানকে ঢাকার হাইকমিশনে একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রথম পর্যায়ে একজন ব্রিগেডিয়ার, দুইজন কর্নেল, চারজন মেজর এবং সহকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে এই টিম কাজ শুরু করবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি
এই প্রবেশাধিকারের বিনিময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশকে সামরিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এতে রয়েছে যৌথ প্রশিক্ষণ, পদাতিক ও আর্টিলারি অস্ত্র সরবরাহ, এবং নৌ ও বিমান বাহিনীর যৌথ মহড়া আয়োজনের পরিকল্পনা।
ঢাকা পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান এবং ফাতেহ সিরিজের রকেট সিস্টেম কেনার আগ্রহ জানিয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধি দল রাওয়ালপিন্ডি সফরে যাবে, যেখানে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক (MoU) ও প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের এ সহযোগিতা “একটি নতুন অধ্যায়” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের জন্য কেন এটি উদ্বেগের
ঢাকায় পাকিস্তানের আইএসআই সেল স্থাপনকে নয়াদিল্লি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে।
ভারতের পূর্ব সীমান্তের এত কাছাকাছি পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের উপস্থিতি গোয়েন্দাগিরি, অন্তর্ঘাত, এবং সন্ত্রাসী অর্থায়নের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই গোয়েন্দা সহযোগিতা পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান নিতে সহায়তা করবে যা ভারতের নৌ ও বিমান নজরদারি কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে।
এছাড়া, কূটনৈতিক আড়ালে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তান গোপন গোয়েন্দা অভিযান চালাতে পারে—যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
ভারতের কাছে শেখ হাসিনার আমল ছিল উগ্রপন্থাবিরোধী শক্ত প্রতিরোধের সময়। কিন্তু এখন মুহাম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে দৃশ্যমান এই পরিবর্তন নয়াদিল্লির জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
শেখ হাসিনা-পরবর্তী কৌশলগত সমীকরণ
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই পাকিস্তান দ্রুত ঢাকার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে শুরু করে।
ইসলামাবাদ ছিল প্রথম দেশগুলোর একটি যারা ইউনুস-নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানায়।
এরপর দুই দেশ ভিসামুক্ত কূটনৈতিক ভ্রমণ, বাণিজ্য সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং নৌ ও বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক সমঝোতা স্বাক্ষর করে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার একাধিকবার মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, ঢাকায় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও।
সাম্প্রতিক সামরিক সফর, লাল গালিচা সংবর্ধনা, এবং এখন আইএসআই ইউনিটের স্থাপন পাকিস্তানের নতুন প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।
ভারতের জন্য এটি শুধু কূটনৈতিক উদ্বেগ নয়। বরং পূর্ব সীমান্তে উদীয়মান এক বাস্তব নিরাপত্তা হুমকি।
সুত্রঃ মানি কন্ট্রোল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au