ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারালো ৫২ রানে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ৩ নভেম্বর-ভারতের নাভি মুম্বাইয়ে তখন গভীর রাত। কিন্তু জেগে আছে ১২৫ কোটি ভারতীয় সমার্থক। থাকবে নাই বা কেন? হারপ্রীতরা ইতিহাস লিখেছেন ডে পাতিল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এশিয়ার কোন দেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয়। উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা ভারতীয় সমার্থকরা। এই রাত যেন শুধু ভারতের নারী ক্রিকেট ইতিহাসের গল্প শোনানোর।
বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচ। দেরিতে অনুষ্ঠিত হয় টস। যেখানে হেরে ব্যাটিংয়ে ভারত। ওপেনিংয়ে দারুণ শুরু শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মানদানার। দুজন মিলে তুলে ফেললেন ১০৪ রান। সেটিও ১৮ ওভারের আগেই।
তখনো ম্যাচ সেরা শেফালি ভার্মা অবিচল। ব্যাট চাবুক বানিয়ে ২২ গজ মাতিয়ে গেলেন। সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়ে ফিরলেন ৮৭ রানে। গত ম্যাচের হিরোইন জেমিমা এদিন সুবিধা করতে পারলেন না। তার ব্যাট থেকে আসলো ২০। ক্যাপ্টেন হারমান পারেননি ইনিংস বড় করতে।
অলরাউন্ডার দীপ্তি যেন মাথায় গেঁথে রেখেছেন শিরোপা তাদেরই। ১০০ স্ট্রাইক রেটে খেলেন ৫৮ রানের ইনিংস। শেষ দিকে রিচি ঘোষের ঝড়ো ৩৪ রানে স্কোরবোর্ডে ৭ উইকেটে ২৯৮ রান তোলে ভারতীয়রা।
জবাবে প্রোটিয়া নারীরাও কম যায় না। ওপেনিংয়ে তারা তুলে ফেলে ৫১। তাজমানের বিদায়ে ভাঙ্গে সেই জুটি। আমনজিতের সরাসরি থ্রোতে তাজমান সাজঘরে।
অ্যানেকে বোশ, সুনে লুউস, মারিজান ক্যাপ, সিনোলা জাফতা ক্যাপ্টেনকে সঙ্গ দিতে পারেননি। ষষ্ঠ উইকেটে ডর্কসেন কে নিয়ে ৬১ রানের জুটি গড়েন লরা ওলভার্ড। ম্যাচসেরা দিপ্তির স্পিনে পরাস্ত হয়ে ফিরলেন ডর্কসেন। ভাঙ্গলো সেই প্রতিরোধ।
একপান্ত আগলে ক্যারিয়ারের ১১ শতক তুলে নিলেন সফরকারী অধিনায়ক লরা। কিন্তু ফিনিশিং টাচ দিতে পারলেন না। ব্যক্তিগত ১০১ রানে থামলো তার প্রতিরোধ।
দলও আর জয়ের দেখা পেলো না। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস গুটিয়ে গেলো ২৪৬ রানে। এই জয়ে গ্রুপ পর্বে হারের প্রতিশোধ নিলো জেমিমা, দীপ্তিরা। সঙ্গে প্রথমবার ঘরে তুললো নারীদের বিশ্বজয়ের ট্রফি। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে চোখ জোড়ানো পারফরমেন্স করেন উত্তর প্রদেশের রাজকণ্যা দীপ্তি। ব্যাটিংয়ে ৫৮ রানের পাশাপাশি বল হাতে দখল করেন ৫ উইকেট।
এই ম্যাচ দেখতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন ভারতের ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকার, রোহিত শর্মাসহ একাধিক বলিউড তারকারা।