সমীক্ষাকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বললেন মমতা, ভোটের ফল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল
মেলবোর্ন, ১ মে- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বুথফেরত সমীক্ষা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ৫ নভেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ৮৪ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিউমোনিয়া ও হৃদরোগজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর সময় পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী লিন এবং কন্যারা।
ডিক চেনি ছিলেন আধুনিক আমেরিকান রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত চরিত্র। তিনি শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় উচ্চপদে ছিলেন না, বরং মার্কিন নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
চেনির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ওয়াইয়োমিং থেকে কংগ্রেসম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে। পরে তিনি হোয়াইট হাউস চিফ অফ স্টাফ হিসেবে ফোর্ড প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর জর্জ হ্ব.বুশ প্রশাসনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু তাঁকে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি এনে দেয় ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জর্জ ডব্লিউ. বুশ প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন।
৯/১১-এর পরবর্তী সময়ে চেনি মার্কিন নীতিনির্ধারণে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি “War on Terror” বা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নীতির প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক যুদ্ধে প্রবেশ করে। চেনি দাবি করেছিলেন, ইরাকের কাছে ধারণকৃত অস্ত্রধর্মী সামগ্রী (WMD) রয়েছে এবং দেশটি সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়দার সাথে যুক্ত। যদিও পরে এই দাবিগুলো বহু পরিসংখ্যানে ভুল প্রমাণিত হয়, তবুও চেনি যুদ্ধের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেন।
চেনির নীতি ও পদক্ষেপগুলো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সম্প্রসারণ, গোপন নজরদারি এবং জোরপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদ (enhanced interrogation) ইত্যাদি বিষয় তাঁকে সমালোচনার মুখে ফেলেছিল। তবুও তিনি ছিলেন একজন দৃঢ়, সিদ্ধান্তমূলক নেতা, যিনি মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ছিলেন।
চেনির প্রয়াণে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একাংশ তাঁকে দক্ষ ও সাহসী নেতা হিসেবে মনে করছেন, আবার অন্যাংশ তাঁকে বিতর্কিত এবং সমালোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখছেন। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশও তাঁকে “নিষ্ঠাবান ও সম্মানজনক ব্যক্তি” হিসেবে স্মরণ করেছেন।
ডিক চেনির মৃত্যু মার্কিন ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করছে। বিশেষ করে ৯/১১ পরবর্তী বিশ্ব, ইরাক যুদ্ধ এবং সন্ত্রাসবিরোধী নীতি-নির্ধারণে তাঁর অবদান ভবিষ্যতের জন্য বিশ্লেষণ ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au