মেলবোর্ন, ৯ নভেম্বর- গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ কায়সার হামিদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে যদি দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কোনো ধরনের ক্ষতি হয়, তাহলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
শনিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
কায়সার হামিদ বলেন, “আমরা শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে সংবেদনশীল। সরকার তাদের কথা শুনছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে এর নামে শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা রাখা বা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা একটি জাতীয় বিষয়। এখানে ব্যক্তিগত বা সংগঠনিক স্বার্থের জায়গা নেই। কেউ যদি আন্দোলনের নামে ক্লাস বর্জন করে, তাহলে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হবে, তার দায় তারা এড়াতে পারবে না।”
গণশিক্ষা উপদেষ্টা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর যৌথভাবে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ও পদোন্নতির দাবিগুলো পর্যালোচনা করছে। “দাবি পূরণে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কিন্তু তা হবে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে -চাপে নয়,” তিনি বলেন।
ড. কায়সার হামিদ বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির করে রাখা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যদি কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে পাঠদান বন্ধ রাখে বা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসতে বাধা দেয়, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আইনানুগ পদক্ষেপও নেওয়া হবে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন অঞ্চলের উপপরিচালক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। তারা মাঠপর্যায়ে বিদ্যালয় কার্যক্রম সচল রাখতে একমত হন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সংলাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
গণশিক্ষা উপদেষ্টা শেষে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো – শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণই এখন সময়ের দাবি।”