মেলবোর্ন, ১১ নভেম্বর- দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক দূরত্ব কাটিয়ে সৌজন্য সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে নোঙর করেছে পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ধারায় এ সফরকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “পিএনএস তারিক” নামের নৌজাহাজটি সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজটি চার দিনব্যাপী বাংলাদেশে অবস্থান করবে। সফরকালীন সময় জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন যৌথ কার্যক্রমে অংশ নেবেন, প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এই সফরের উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা অন্বেষণ করা। সফরের অংশ হিসেবে পাকিস্তানি নৌসদস্যরা চট্টগ্রামে অবস্থিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন করবেন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তারাও সফরটিকে “বন্ধুত্বপূর্ণ বিনিময়ের সুযোগ” হিসেবে দেখছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের সফর কেবল সামরিক সহযোগিতাই নয়, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা যোগাযোগ সীমিত ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কূটনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ার ফলে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর সম্ভব হচ্ছে। তাঁরা মনে করেন, এই সফর ভবিষ্যতে দুই দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জলদস্যু দমন, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় যৌথ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশ তার উন্মুক্ত পররাষ্ট্রনীতি অনুসারে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজের সফর সেই নীতিরই অংশ।”
চট্টগ্রামে স্থানীয় জনগণ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা পাকিস্তানি জাহাজের আগমনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এই সফর দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এ ধরনের সফর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় সামুদ্রিক কূটনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।