চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২ ডিসেম্বর- বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবনতি দেশের রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠেছে একটাই প্রশ্ন, মায়ের সংকটময় মুহূর্তে কেন তারেক রহমান পাশে নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি তার নিজের একক সিদ্ধান্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
তারেক রহমান দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। ২০০৮ সালে একাধিক মামলা ও দণ্ডের পর দেশ ছাড়েন তিনি। এই মামলাগুলোকে বিএনপি ও বিরোধী মহল রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে। পরবর্তীতে কয়েকটি মামলায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান খালাস পান।
তবে অতীতের দণ্ড ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও দেশে ফেরার পথকে জটিল করে রেখেছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক সতর্কতা, সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি অদৃশ্য কিছু বিষয় তারেককে মায়ের পাশে তাত্ক্ষণিকভাবে যেতে বাধা দিয়েছে।

খালেদা জিয়া। ছবিঃ সংগৃহীত
সরকারের অবস্থান
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, তারেক চাইলে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো বাধা নেই। প্রয়োজনে একদিনের মধ্যে ট্রাভেল পাসও জারি করা সম্ভব। এছাড়া ইউনুস সরকারের প্রেস সচিবও একই বক্তব্য দিয়েছেন।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কথাই বলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তব উদ্যোগের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা বলছেন, তারেকের দেশে ফেরা বিএনপির কর্মী ও সমর্থকদের সংগঠিত করতে পারে, যা রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংবেদনশীল।
কী বলছেন তারেক রহমান
তারেক রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি মায়ের কাছে যেতে চাইছেন। কিন্তু দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর একদমই নির্ভর করছে না। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব নয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তাঁর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে। ফেসবুক পোস্টে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভালোবাসা, প্রার্থনা ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের নেতৃবৃন্দের উদ্বেগ এবং সহযোগিতা তাঁর পরিবারকে শক্তি ও প্রেরণা দিচ্ছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে তারেক রহমান বিএনপির প্রধান মুখ হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাঁকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন। সমালোচকরা মনে করেন, এই কারণেই অন্তর্বর্তী সরকার তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। তার ফেরার ফলে বিএনপির কর্মী ও সমর্থকরা সংগঠিত হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি করতে পারে।
আইনি জটিলতা
২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেককে অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে গত বছর হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দিয়েছে। চলতি বছরের দুর্নীতির মামলাতেও তিনি ও তাঁর স্ত্রী খালাস পেয়েছেন। তবুও অতীতের মামলা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেশে ফেরাকে জটিল করে রেখেছে।
সংকটময় এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার পাশে থাকা তারেকের জন্য শুধু আবেগ বা পারিবারিক ইচ্ছার বিষয় নয়। এটি জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক বাস্তবতা, আইনি জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানের সঙ্গে। তারেক দেশে ফিরতে ইচ্ছুক, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই।
সূত্রঃ এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au