চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২ ডিসেম্বর- ২০০৭ সালের মার্চ মাস। সেই সময় বাংলাদেশের রাজনীতি ছিল অস্থির। রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে গ্রেফতারের আতঙ্ক চলছিল। জানুয়ারি মাসের ১১ তারিখ সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম দুই মাসে ২০০-এর বেশি রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীকে আটক করা হয় দুর্নীতির অভিযোগে।
তৎকালীন সময়ে মানুষজনের মনেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, তারেক রহমান কি গ্রেফতার হবেন? সংবাদমাধ্যমও নিয়মিত এমন রিপোর্ট প্রকাশ করছিল যে যেকোনো মুহূর্তে তাকে আটক করা হতে পারে। ঢাকার মইনুল রোডের বাড়িতে অবস্থানকালে তারেক রহমানের পরিস্থিতি অস্থির ছিল, সংবাদপত্রও সেই ছবি তুলে ধরেছিল। অবশেষে, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তাকে গ্রেফতার করা হয়।
অল্প সময়ের আগে, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র হিসেবে তারেক রহমানের প্রভাব ও ক্ষমতা ছিল বিশাল। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাকে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব পদে নিযুক্ত করা হয় এবং খালেদা জিয়া কার্যত তাকে দলের ভবিষ্যত নেতা হিসেবে তুলে ধরেন।
রিমান্ড ও নির্যাতন
গ্রেফতারের পর তারেক রহমানকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। র্যাব-এর বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হেলমেট পরিয়ে তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে রাখা হয়। তারেক রহমান এবং বিএনপির পক্ষ অভিযোগ তোলে যে রিমান্ডে তার উপর ‘অমানুষিক নির্যাতন’ করা হয়েছে। ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ২০০৮ সালের ১০ জানুয়ারি তারেকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে লিখেছিল, “রিমান্ডে আমাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই হাত ও চোখ বেঁধে রাখা হতো, রুমের ছাদের সঙ্গে ঝুলিয়ে ফেলা হতো এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো।”
খালেদা জিয়ার সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের দরকষাকষি
তারেক রহমান গ্রেফতার হওয়ার ছয় মাস পরে খালেদা জিয়াও আটক হন। সে সময় তিনি সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। শেখ হাসিনার গ্রেফতারের পর খালেদা জিয়াকেও আটক করার চাপ সেনা-সমর্থিত সরকারের উপর বাড়তে থাকে।
অনেকে মনে করেছিলেন, খালেদা জিয়া সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে তার দুই ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে পারেন। তবে সময়ের সঙ্গে ধারণা পরিষ্কার হয় দু’জনের মুক্তি এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের শর্ত নিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দরকষাকষি হয়েছিল।
বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ তাঁর বইতে লিখেছেন, খালেদা জিয়াকে আদালতে এবং সাব-জেলে বসিয়ে সেনা কর্মকর্তারা তারেক ও আরাফাত রহমানের মুক্তি এবং বিদেশে পাঠানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। সেনা কর্মকর্তারা ছোট ছেলে আরাফাতকে মুক্তি দিতে রাজি হলেও তারেক রহমানের ব্যাপারে অবশ্যম্ভাবী বাধা ছিল। খালেদা জিয়ার জন্য উভয় ছেলের মুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবিঃ খালেদা জিয়া
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
দু’হাজার সাত-আট সালে ঢাকায় নিযুক্ত পশ্চিমা কূটনীতিকরা সেনা-সমর্থিত সরকারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির পাঠানো গোপন বার্তায় উল্লেখ আছে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মুক্তি নিয়ে সমঝোতা নিকটবর্তী ছিল, কিন্তু অবিশ্বাসের কারণে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার ব্রিগেডিয়ার এটিএম আমিন। বৈঠকে তারেক রহমানের মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
তারেক রহমানের লন্ডন যাত্রা
মুক্তি পাওয়ার পর তারেক রহমান ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন। একই দিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া হাসপাতালে ছেলের পাশে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন।
লন্ডন যাত্রার কয়েক ঘণ্টা আগে তারেক রহমান দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। তিনি অন্তত তিন বছর রাজনীতির বাইরে থাকার শর্তে রাজী হন। খালেদা জিয়া গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তারেক রহমান সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রাজনীতির বাইরে থাকবেন।

তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহীত
মওদুদ আহমদ উল্লেখ করেছেন, খালেদা জিয়া বুঝেছিলেন যে তারেক রহমান যদি তখনই মুক্তি না পান, তাহলে আর কখনও সহজে দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। তারেক বিদেশে গেলে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হওয়ার চাপ কম হবে এবং রাজনীতিতে ফিরে আসার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।
মুক্তি ও রাজনৈতিক সমঝোতার ফলাফল
আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান মুক্তি পান। তার পরে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের শর্তে কিছু শর্ত দেয়। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস রিপোর্ট করে, নির্বাচনে খালেদা জিয়ার দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য তারেক রহমানকে মুক্তি দেওয়া হয়।
তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং সেখানে থেকে বিএনপি পরিচালনা করছেন। ২০১২ সালে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছিলেন এবং পরের বছর তা গ্রহণ করা হয়।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au