বিশ্ব

‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে কেন নতুন বিতর্ক

  • 3:29 pm - December 09, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৯৪ বার
বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান।ছবিঃ বিবিসি

মেলবোর্ন, ৯ ডিসেম্বর- ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’কে ঘিরে সংসদে নতুন করে উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে। আলোচনার সূচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেন কংগ্রেস দল গত শতাব্দীতে মুসলিম লীগের চাপে নতি স্বীকার করে গানটির প্রতি অবিচার করেছিল। তিনি সরাসরি জওহরলাল নেহরুকে দায়ী করেন। বিরোধীরা পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন সরকার পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের আগে ইস্যুটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দে মাতরম্’ গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে অনুষ্ঠানমালা চলছে। সেই প্রেক্ষিতে সংসদে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিতর্ক শুরু হয়। সাংগঠনিক ইতিহাসের দিক থেকে গানটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর পরের স্তবকে হিন্দু ধর্মীয় চিত্রকল্প থাকায় ব্রিটিশশাসনকালে মুসলিম নেতাদের অংশ থেকে আপত্তি ওঠে। ১৯৩৭ সালে সেই বিতর্ক মেটাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে কংগ্রেস প্রথম দুটি স্তবককে নিজেদের সংগীত হিসেবে গ্রহণ করে।

ভারতের সংবিধান সভায় বক্তব্য রাখছেন নেহরু, ছবি: বিবিসি

লোকসভায় ভাষণে মোদি দাবি করেন, মুসলিম লীগের বিরোধিতার মুখে নেহরু গানটির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার থেকে সরে আসেন এবং পরে দেশভাগের সময়ও ‘মাথা নত করেন’। তাঁর কথায়, গানটির গৌরব ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে এবং কেন বাকি অংশ গাওয়া হয় না, তা দেশবাসীকে জানানো দরকার।

এই বক্তব্যের জবাবে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা বলেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে পুরোনো বিতর্ক উস্কে দিচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে যে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে সাংস্কৃতিক ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরি করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম্’ এমনিতেই মানুষের হৃদয়ে আছে, সে বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক তোলার প্রয়োজন নেই। বরং দ্রব্যমূল্য বা বেকারত্বের মতো বর্তমান সংকট নিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত।

ইতিহাসবিদদের মতে, ‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে বিতর্কের শিকড় বহু পুরানো। ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে গানটি স্থান পাওয়ার পর এর পরের স্তবকগুলোতে হিন্দু দেবীর প্রতি স্তুতি থাকায় মুসলিম সমাজের আপত্তি তৈরি হয়। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েন বিষয়টি নিয়ে। তখন নেহরু ও সুভাষ চন্দ্র বসু রবীন্দ্রনাথের পরামর্শ চান। ঠাকুর স্পষ্ট মত দেন যে প্রথম দুটি স্তবকে আপত্তির কারণ নেই, কিন্তু পরের অংশ নিয়ে আপত্তি যুক্তিযুক্ত। সেই মতানুযায়ী গানটির প্রথম দুটি অংশই সরকারি অনুষ্ঠানে গাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

লোকসভায় নরেন্দ্র মোদী। ছবিঃ বিবিসি

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার মুহূর্তে সংসদে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া হয়। পরে দীর্ঘ বিতর্কের পর ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভা ‘জন গণ মন’কে জাতীয় সংগীত এবং ‘বন্দে মাতরম্‌’কে জাতীয় গান হিসেবে মর্যাদা দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিতর্ক ভারতীয় রাজনীতির সেই পুরোনো মতাদর্শিক বিভাজনকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। শাসক দল যেখানে গানটির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার তুলে ধরে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দাবি করছে, বিরোধীরা বলছে এটি নির্বাচনী হিসাবের অংশ। বিষয়টি আগামী দিনে সংসদ, রাজনীতি ও জনপরিসরে আরও আলোচনার জন্ম দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

এই শাখার আরও খবর

কোন পথে হাঁটছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর উভয়…

ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ

মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে জয় পেয়েছে…

আইভীর মুক্তি: আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত নাকি নতুন সমীকরণ?

মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিএনপি সরকার সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কেন জামিন দিলো? হ্যাঁ, বাংলাদেশে আদালত জামিন দেয় না, জামিন দেয় যারা সরকারে থাকে। তো, আইভীকে কেন…

সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল জামালপুরের প্রবাসী যুবক শামীমের

মেলবোর্ন,০৬জুন-সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার এক বাংলাদেশি প্রবাসী যুবক। নিহত শামীম হোসেন (৩২) উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুস…

ঈদুল গাদিরে দুই হাজারের বেশি বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দিলেন মোজতবা খামেনি

মেলবোর্ন,০৬জুন-ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল গাদির উপলক্ষে দুই হাজারের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা মওকুফ করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। শুক্রবার ইরানের বিচার…

তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বাউবির দরজা সবসময় খোলা: উপাচার্য

মেলবোর্ন,০৬জুন-তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, শিক্ষা…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au