বাংলাদেশ

বিজয়ের সত্য অমলিন, ইতিহাস মুছে যায় না

  • 4:38 am - December 16, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৯৯ বার
সম্পাদকীয়

মেলবোর্ন, ১৬ ডিসেম্বর- ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিন। এই দিনটি কেবল একটি সামরিক বিজয়ের স্মারক নয়; এটি আত্মত্যাগ, সাহস ও মানবিক মর্যাদার পুনর্জন্ম। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং অসংখ্য নারী-পুরুষ-শিশুর ত্যাগে অর্জিত এই বিজয় আমাদের কৃতজ্ঞতা ও আত্মসমালোচনার দিন-যাতে আমরা অতীতের শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে এগোতে পারি।

এ বছরের বিজয় দিবস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বেদনাদায়ক হলো, আজ বিজয় দিবসকে ঘিরে ‘নতুন ইতিহাস’ শোনার চাপ তৈরি করা হচ্ছে-যেখানে ১৯৭১-এর অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা দেখা যায়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি প্রমাণ করতে চায় যে ‘৭১ বলে কিছু ছিল না’।

এটি কেবল ইতিহাস বিকৃতি নয়; এটি শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী গঠিত হয়। এরা ছিল দখলদার বাহিনীর স্থানীয় সহচর-যাদের কাজ ছিল মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি, ধরপাকড়, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালানো। আল-বদর ও আল-শামস বিশেষভাবে পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী নিধনে যুক্ত ছিল-শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের হত্যা করে জাতিকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা চালায়।

১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এই সংগঠিত অপরাধের চূড়ান্ত উদাহরণ। এই সময় নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান ও ওয়াশিংটন পোস্ট একাধিক প্রতিবেদনে রাজাকার বাহিনীর সহায়তায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গ্রাম পোড়ানো, ধর্ষণ ও হত্যা অভিযানের কথা প্রকাশ করে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো সেই সময় শরণার্থী স্রোত, নির্বিচার হত্যাকাণ্ড এবং বুদ্ধিজীবী নিধনের তথ্য তুলে ধরেছে। বিদেশি সাংবাদিকদের মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট, কূটনৈতিক তারবার্তা এবং মানবাধিকার সংগঠনের নথিপত্র-সবই এক সুরে কথা বলে: ১৯৭১ ছিল গণহত্যা ও স্বাধীনতার লড়াইয়ের বছর, আর রাজাকার-আলবদর-আলশামস ছিল সেই অপরাধযজ্ঞের সক্রিয় অংশীদার।

ইতিহাসকে অস্বীকার করে কোনো জাতি এগোয় না। সত্যকে মুছে ফেলার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকেই দুর্বল করে। বিজয় দিবস আমাদের শেখায়-স্বাধীনতা কেবল অর্জনের নয়, রক্ষারও। আজকের বাংলাদেশে প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনা-যেখানে মতভেদ থাকবে, কিন্তু ইতিহাস বিকৃতি নয়; রাজনীতি থাকবে, কিন্তু ঘৃণা ও অস্বীকার নয়; ক্ষমতা থাকবে, কিন্তু জবাবদিহির বাইরে নয়।

এই বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক-১৯৭১-এর সত্যকে রক্ষা করব, শহীদদের সম্মান করব, এবং একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের পথে নির্ভীকভাবে এগোব। কারণ বিজয় কেবল অতীতের স্মৃতি নয়; এটি ভবিষ্যতের দায়।

এই শাখার আরও খবর

বউকে বাঁচাতে গিয়ে শাশুড়ির মৃত্যু, কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল দুজনের

মেলবোর্ন,০৬জুন-কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মর্মান্তিক বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় এক গৃহবধূ ও তার শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের উখরাশাল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের এক…

চার সীমান্ত দিয়ে পুশ–ইন চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি ও স্থানীয়রা

মেলবোর্ন,০৬জুন-লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৬০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।…

ইসরায়েলি রোগীদের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগে দুই নার্সের বিচার ঘিরে নতুন বিতর্ক

মেলবোর্ন, ৫ জুন- অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ব্যাংকসটাউন হাসপাতালের দুই নার্স সারা আবু লেবদেহ ও আহমদ রাশাদ নাদিরের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি রোগীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বহুল আলোচিত মামলার…

আইএসআইএস-সম্পর্কিত নারী জেইনাব আহমদের জামিন শুনানিতে চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য

মেলবোর্ন, ৫ জুন- আইএসআইএস-সম্পর্কিত দাসত্ব ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নারী জেইনাব আহমদের জামিন শুনানিতে তার চাচা আব্রাহাম আব্বাস সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএসকে ‘অশুভ’ বলে তীব্র…

বিমানবন্দরে বিমান ছিনতাইচেষ্টার অভিযুক্ত কিশোর অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে চেয়েছিল: আদালত

মেলবোর্ন, ৫ জুন- অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের অ্যাভালন বিমানবন্দরে জেটস্টার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত এক কিশোর দেশ ছাড়ার উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছিল বলে…

টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মেলবোর্ন, ৫ জুন- টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au