শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে কথিত ইসলাম অবমাননার অভিযোগে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে তৌহদী জনতা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ ডিসেম্বর- ময়মনসিংহের ভালুকায় শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে কথিত ইসলাম অবমাননার অভিযোগে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে তৌহদী জনতা। তারা তখন শ্লোগান দিচ্ছিল- নারায়ে তাকবীর আল্লাহো আকবর!
এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা নিয়ে খুব বেশি মানবতাবাদীদের পাওয়া যায়নি কথা বলতে। সবাই হাদী হাদী করছে বুক চাপড়ে। একটা গালিবাজ, মববাজ, ফ্যাসিবাদী মানসিকতার ওসমান হাদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন হচ্ছে। মানবতাবাদীদের কাছে শাউয়ামাউয়া ছিঁড়ে ফেলা মবস্টারের মবের অধিকার সবার আগে। এখন তো মানবতাবাদী এক্টিভিস্টরা প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আদিলুর রহমান নামে একজন মানবতাবাদী ‘ফ্যাসিস্ট নির্মূলের’ ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৩ সালে তিনি মানবতাবাদী হিসেবে মতিঝিলে কয়েক লাখ হুজুর খুন করে গুম করা হয়েছিল বলে দাবী করেছিল। যদিও বিবিসি জানিয়েছিল সেরকম কিছু সেরাতে তারা ঘটতে দেখেনি। যাই হোক, দীপু চন্দ্র দাস নামেই তার পরিচয়। তাকে নিয়ে জুলাই মানবতাবাদীরা পোস্ট করবে না। সলিমুল্লাহ খান তো বলেই দিয়েছে এদেশের হিন্দুরা হচ্ছে ইন্ডিয়ার এজেন্ট! উনি মুখ খুলে বলেছেন, বাকীরা বলতে পারেনি। সামনে বলে ফেলবে।
আজকে এরকম কোন ঘটনা পৃথিবীর কোথাও ঘটলে, মনে করেন ভারতে কোন মুসলমানকে এভাবে মেরে ফেললে তার কভারেজ হতো আল জাজিরা থেকে সিএনএন পর্যন্ত। এটা হতো ভারতের প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু। ভারতের বিরোধী দল, কমিউনিস্টরা, বুদ্ধিজীবীরা রায় দিয়ে দিতো ভারত এখন আর বসবাসের মত কোন দেশ নয়, ভারত উগ্র হিন্দুদের দেশ হয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশের এই নিউজ তাদেরকে দিন, দেখবেন আপনাকে ‘বিজেপির আইটিসেলের লোক’ বানিয়ে দিবে। একজন নিরহ দরিদ্র মানুষকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগে এভাবে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে আর আইন শৃঙ্খলার লোকজন মাইকিং করে বলছে সবাই সরে যান, সবাই সরে যান…। যেন মানুষ নয়, কুশপুত্তলিকা পুড়ানো হচ্ছিল!
রিপাবলিক টিভি আরেকবার মেঘমল্লার বসুকে নিয়ে আসুক। তাকে জিজ্ঞেস করুক বাংলাদেশে এরকম ঘটনা ঘটতে পারে তার মানে দেশটা মৌলবাদীদের হাতে গিয়ে পড়েছে। দেখবেন সে জবাব দিবে, এই ঘটনার সঙ্গে সংখ্যালঘু ইস্যুর কোন সম্পর্ক নেই, এখানে কোন মৌলবাদের উত্থানও হয়নি, এটা রাজনৈতিক ঘটনা, ভারত মিছিমিছি বাংলাদেশ নিয়ে প্রোপাগন্ডা চালাচ্ছে!
লেখক: সুষুপ্ত পাঠক