আজ মেসির ৩৯তম জন্মদিন
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও সফল তারকাদের একজন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি আজ ৩৯ বছরে পা রেখেছেন। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের এক সাধারণ পরিবারে…
মেলবোর্ন, ২১ ডিসেম্বর- বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতার সূচনা হয়েছে ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় ৩২ বছর বয়সী শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায়। শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় এই তরুণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়, যা দেশজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দেয়।
এই অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতের কূটনৈতিক উপস্থিতির ওপর। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটে অবস্থিত ভারতের সহকারী হাইকমিশনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয় বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন কেন্দ্র। পরিস্থিতি দিল্লির উদ্বেগ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে যখন আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
হাদি ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চ বা প্ল্যাটফর্ম ফর রেভল্যুশনের মুখপাত্র। গত শুক্রবার ঢাকায় ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে নির্ধারিত নির্বাচনের জন্য প্রচারণা শুরু করার সময় মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা তাকে মাথায় গুলি করে। ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। বাংলাদেশ পুলিশ দাবি করেছে, হামলায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়েছে।
এই বক্তব্যের পর হাদির সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই ক্ষোভ থেকেই ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনগুলোকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভ ও হুমকি বাড়ে। এর মধ্যেই ভারত দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঢাকাকে তাদের মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
এদিকে ঢাকায় দুটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে জনতার হামলার ঘটনাও ভারতের নজরে এসেছে। শেখ হাসিনার সমালোচকরা এই গণমাধ্যমগুলোকে তার ঘনিষ্ঠ ও ভারতঘেঁষা বলে অভিযুক্ত করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। শেখ হাসিনার শাসনামলে এই দুটি সংবাদমাধ্যমই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাদের প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল।
অদ্ভুতভাবে, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনেও এই সংবাদমাধ্যমগুলো সমর্থন জানিয়েছিল এবং একে নতুন ভোর হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার পর শুক্রবার দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয়তে ঘটনাটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য অন্ধকার দিন হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ঢাকার রাজপথে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ক্রমেই অদৃশ্য শত্রুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এই প্রেক্ষাপটে দিল্লির উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি কি ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করবে। উদ্বেগটি অমূলক নয়। হাদির হত্যাকাণ্ড ঘটে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার মাত্র একদিন পর, এমন এক সময়ে যখন অন্তর্বর্তী সরকার সংসদের কোনো তদারকি ছাড়াই প্রায় ১৬ মাস ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
ভারতসহ আন্তর্জাতিক মহলের বড় একটি অংশ বাংলাদেশের নির্বাচনকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের আশঙ্কা, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ না পেলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ভারত বারবার জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চায়। ১৪ ডিসেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতেও এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
অন্তর্ভুক্তিমূলক শব্দটি মূলত আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। তবে বাংলাদেশ সরকার তাদের বক্তব্যে এই শব্দটি ব্যবহার করেনি। তারা বলেছে, সর্বোচ্চ মানের নির্বাচন আয়োজন এবং ভোটারদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার মতো পরিবেশ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য, যা গত ১৫ বছরে অনুপস্থিত ছিল।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্পষ্টভাবে বলেছেন, ভারতের বিবৃতিতে পরামর্শের সুর ছিল, কিন্তু বাংলাদেশ এ বিষয়ে প্রতিবেশীদের উপদেশ প্রত্যাশা করে না। তার বক্তব্যে দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত মিলেছে।
দ্য ডেইলি স্টারও আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গটি সরাসরি উল্লেখ করেনি। হামলার আগের এক সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি শান্তিপূর্ণ প্রচার, সব প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ এবং ভোটারদের ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়। সেখানে আওয়ামী লীগের নাম না থাকলেও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে স্পষ্ট সতর্কতা ছিল।
সাম্প্রতিক সহিংসতার মধ্যে বিএনপি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, পরিস্থিতি নির্বাচনকে ভেস্তে দিতে পারে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলাকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পিত চেষ্টা বলে অভিহিত করেন।
দিল্লির কাছে এই পরিস্থিতি ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ ও তার পরবর্তী অস্থিরতার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। প্রতিবেশী দেশে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা যেমন ভারতের জন্য উদ্বেগজনক, তেমনি বাংলাদেশের বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ডানপন্থী ইসলামি রাজনৈতিক শক্তির উত্থানও বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।
১৪ ডিসেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা আশা করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনসহ দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। নতুন দিল্লি বিষয়টি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ আগামী এপ্রিল ও মে মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও নির্বাচন হওয়ার কথা। এক জ্যেষ্ঠ ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তের ওপারের সহিংসতার প্রভাব যেন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে না পড়ে, সেটিই এখন তাদের বড় উদ্বেগ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au