আজ মেসির ৩৯তম জন্মদিন
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও সফল তারকাদের একজন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি আজ ৩৯ বছরে পা রেখেছেন। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের এক সাধারণ পরিবারে…
মেলবোর্ন, ২১ ডিসেম্বর- দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার উপকূলবর্তী সমুদ্র এলাকা থেকে আবারও একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলা থেকে যাত্রা শুরুর পর আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজটি আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। চলতি মাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ভেনেজুয়েলার উপকূলসংলগ্ন এলাকায় তেলবাহী জাহাজ আটকের ঘটনা।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পরই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলায় তেলবাহী ট্যাংকারের প্রবেশ ও বের হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে এসব জাহাজ আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে তেলবাহী ট্যাংকার আটকের ঘটনা ঘটল।
এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। এক বিবৃতিতে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের এই কার্যক্রমকে সরাসরি “চুরি ও অপহরণ” বলে আখ্যা দিয়েছে। ভেনেজুয়েলা বলেছে, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের জাতীয় সম্পদ চুরি করার চেষ্টা করেছে এবং এবারও একই ধরনের অবৈধ আচরণ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই কর্মকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক সংস্থা ও সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে দেশটি।
মার্কিন কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আটকের সময় জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিযানের একটি প্রায় সাত মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন হেলিকপ্টার থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা একটি জাহাজের ডেকে অবতরণ করছেন।
নিজের পোস্টে নোয়েম জানান, ২০ ডিসেম্বর ভোরের কিছু আগে ভেনেজুয়েলা থেকে ছেড়ে আসা একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করে মার্কিন কোস্টগার্ড। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে মাদক সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নে ব্যবহৃত অননুমোদিত তেলের অবৈধ চলাচল বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করে থামানো হবে।
অভিযানের ভিডিওতে যে জাহাজটি দেখা যায়, তাতে ‘সেঞ্চুরিস’ নাম লেখা রয়েছে। জাহাজটি মূলত পানামার পতাকাবাহী হলেও বিবিসি ভেরিফাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এটি গ্রিস ও লাইবেরিয়ার পতাকাও ব্যবহার করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনুমোদিত জাহাজের তালিকায় এই জাহাজটির নাম নেই বলে জানানো হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্যারিবিয়ান সাগর এলাকায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়ের মধ্যে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার একাধিক নৌযানে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এসব হামলায় প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এসব অভিযানের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরেনি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা নিয়ে দেশটির কংগ্রেসও নজরদারি জোরদার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘কার্টেল দে লস সোলস’ নামে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে মাদুরো এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তবুও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, মাদুরো ও তার রাজনৈতিক দল চুরি করা তেল ব্যবহার করে মাদক সন্ত্রাসবাদ, মানব পাচার, খুন ও অপহরণের মতো অপরাধে অর্থ জোগান দিচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার উপকূলে দ্বিতীয় দফায় তেলবাহী ট্যাংকার আটক হওয়ার পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এক্সে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, অবৈধ অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে যাবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সহিংসতা, মাদক ও বিশৃঙ্খলা পশ্চিম গোলার্ধকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুদ ভেনেজুয়েলায় রয়েছে। দেশটির সরকারি ব্যয় নির্বাহে তেল রপ্তানি প্রধান আয়ের উৎস। এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় গোপনে চলাচলের সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই ঘটনার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ ঘোষণা করে অবৈধ তেলবাহী ট্যাংকার আটকের নির্দেশ দেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, স্কিপার নামে পরিচিত সন্দেহভাজন একটি জাহাজ অবৈধ তেল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল। আটক জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au