আজ মেসির ৩৯তম জন্মদিন
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও সফল তারকাদের একজন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি আজ ৩৯ বছরে পা রেখেছেন। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের এক সাধারণ পরিবারে…
মেলবোর্ন, ২২ ডিসেম্বর- বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর ভারত ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে। তিনি জানান, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে ভারতের উদ্বেগ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।
নিহত দীপু চন্দ্র দাস, বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ২৭ বছর, পেশায় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় কর্মস্থল-সংক্রান্ত একটি বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর উত্তেজিত একদল মানুষ তাকে মারধর করে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ একটি গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে দেশজুড়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে, যা শুরু হয় ভারতবিরোধী রাজনীতিক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকার এক সপ্তাহ পর তার মৃত্যু হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ঘটনার নিন্দা জানায়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন প্রথমে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় দশে। তবে এই ঘটনা বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে।
এদিকে ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি ছোট দল জড়ো হয়ে দীপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদ জানায় এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই বিক্ষোভে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে কোনো ধরনের হামলা হয়নি। কিছু বাংলাদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর বলেও মন্তব্য করে ভারত।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, কোনো সময়েই নিরাপত্তা ভঙ্গের চেষ্টা বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় এবং পুরো ঘটনাটির দৃশ্যমান প্রমাণ প্রকাশ্যে রয়েছে।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অস্থিরতার মধ্যে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে পাথর নিক্ষেপসহ ভারতীয় কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত চট্টগ্রামের ভিসা আবেদন কেন্দ্রে কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখে।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে হওয়া বিক্ষোভ কিংবা চট্টগ্রামের ঘটনার বিষয়ে ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য আসেনি। তবে ভিয়েনা কনভেনশনের অধীনে কূটনৈতিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে ভারত জানিয়েছে, নয়াদিল্লির ঘটনাটি কোনোভাবেই কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেনি।
সুত্রঃ Wion
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au