আংশিক খুলছে কাতারের আকাশপথ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংকারে লাখো ইসরায়েলি
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।…
মেলবোর্ন, ২২ ডিসেম্বর- একটু পেছনে ফিরে তাকানো প্রয়োজন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় একের পর এক রাষ্ট্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ সংঘটিত হয়েছিল, সে সময় প্রথম আলো ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় দিয়েছিল ‘ছাত্র-জনতা’ হিসেবে, ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে নয়। গণভবনে হামলার ঘটনাও বর্ণিত হয়েছিল ‘ছাত্র-জনতার’ কর্মকাণ্ড হিসেবে। বত্রিশ নম্বরের ঘটনাতেও একই ভাষা ও পরিচয়ের ব্যবহার দেখা গেছে।
অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভাষা বদলে গেছে। আজ সেই একই চিহ্নিত গোষ্ঠী যখন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা চালায়, তখন তারা হয়ে ওঠে ‘সন্ত্রাসী’।
একজন প্রথম আলোর নিয়মিত পাঠক হিসেবে এই ভাষাগত পরিবর্তন নিয়ে প্রথম আলোকে প্রশ্নটি করতে চাই। কীভাবে একই ধরনের সহিংসতা এক প্রেক্ষাপটে ‘ছাত্র-জনতার আক্রোশ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, আর অন্য প্রেক্ষাপটে তা হয়ে ওঠে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলা’? সহিংসতার চরিত্র কি তার লক্ষ্যবস্তুর পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে বদলে যায়, নাকি ঘটনার মূল্যায়ন নির্ধারিত হয় ভুক্তভোগীর সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে?
যে সংবাদপত্রটি নিজেকে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, সেই পত্রিকার কাছ থেকেই যদি ভাষা ব্যবহারে এমন নৈতিক অসামঞ্জস্য দেখা যায়, তবে তা কেবল হতাশাজনক নয়, গভীরভাবে উদ্বেগজনকও বটে।
গত ১৮ ডিসেম্বর দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি দৈনিক, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো সংবাদপত্রের অফিসে এমন ভয়ংকর হামলার ঘটনা ঘটল, অথচ ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পুরো সময়টাই কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন- যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও সদিচ্ছা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ সেই বাস্তবতাকে আরও নির্মমভাবে সামনে এনেছে। ডেইলি স্টারের ভবনের ভেতরে আগুন জ্বলছে, সাংবাদিকরা আটকে পড়েছেন, আর তাদের উদ্ধারে যাওয়া সেনাসদস্যদের হামলাকারীদের কাছে কাকুতি মিনতি করে কুড়ি মিনিট সময় চাইতে হচ্ছে। সেই সময়সীমা শেষ হতেই আবার নতুন করে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে মেতে ওঠে হামলাকারীরা। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর এমন অসহায় ও বিব্রতকর চিত্র কেবল দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও তীব্র নিন্দার জন্ম দিয়েছে।
এর পরদিন, ১৯ ডিসেম্বর, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার প্রকাশিত হয়নি। একদিন পর, ২০ ডিসেম্বর, পত্রিকা দুটি আবার প্রকাশিত হয়। সর্বাধিক সার্কুলেশনধারী প্রথম আলোর সেই সংখ্যাটি অনেক পাঠক গভীর আগ্রহ নিয়ে পড়েছেন। কিন্তু সেই পাঠ থেকে বিস্ময়ের চেয়ে বেশি জন্ম নিয়েছে হতাশা ও প্রশ্ন।
প্রথম আলো এবং এর সম্পাদক যে জানেন কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। তবু জানা সত্ত্বেও হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, কিংবা বলা ভালো, প্রকাশ করা যায়নি। যারা ‘জুলাই সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত, তাদের পরিচয় সংকুচিত করে কেবল ‘সন্ত্রাসী’ শব্দে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
পরিচয় জানা সত্ত্বেও তা উচ্চারণ করতে না পারার এই অক্ষমতা প্রথম আলোর নৈতিকতার মৌলিক ধারণার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
শেষে আরেকটি প্রশ্ন রেখে শেষ করতে চাই। প্রথম আলোর সম্পাদক মহোদয়ের প্রতি বিনীত অনুরোধ, নিরপেক্ষতার জায়গা থেকে ভেবে দেখুন- ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের বর্তমান গণমাধ্যম আসলে কতটা নিরাপদ, আর কতটা স্বাধীন? এই প্রশ্নের উত্তর কেবল একটি পত্রিকার নয়; এটি দেশের সমগ্র সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক পরিসরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সঙ্গেই গভীরভাবে জড়িত।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au