মেলবোর্ন, ২৩ ডিসেম্বর- পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বাহিনীর উচ্ছেদ অভিযান আরও এক দফা উত্তেজনা তৈরি করেছে। সোমবার ভোরে ইসরায়েলি বুলডোজার সিলওয়ান এলাকায় একটি চারতলা আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। মধ্যরাতে দরজা ভেঙে বাসিন্দাদের বের করে দেওয়ার পর ভোরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ভবনটি ভাঙা শুরু হয়। এতে সেখানে বসবাসকারী বহু ফিলিস্তিনি পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সংযুক্ত পূর্ব জেরুজালেমে ‘অননুমোদিত নির্মাণ’ দেখিয়ে যেসব স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ভাঙচুর চালাচ্ছে, এই ঘটনাটি তারই সাম্প্রতিক উদাহরণ। স্থানীয় ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার একটি পদ্ধতিগত নীতির অংশ।
পুরোনো শহরের কাছাকাছি সিলওয়ান এলাকায় অবস্থিত ভবনটিতে এক ডজনের মতো ফ্ল্যাট ছিল। সেখানে প্রায় ১০০ জন মানুষ বসবাস করতেন, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্করাও ছিলেন। অভিযানের সময় বাসিন্দাদের শুধু জামাকাপড় বদলানো এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়ার অল্প সময় দেওয়া হয়।
ভবনটির বাসিন্দা পাঁচ সন্তানের বাবা ঈদ শাওয়ার বলেন, গভীর রাতে তারা ঘুমিয়ে থাকার সময় দরজা ভেঙে ঢোকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তিনি জানান, যাওয়ার মতো কোনো জায়গা না থাকায় তার সাত সদস্যের পরিবারকে গাড়িতেই রাত কাটাতে হবে। শাওয়ারের ভাষায়, “এই ভাঙচুর আমাদের সবার জন্যই এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি।”
এএফপির এক সাংবাদিক জানান, সোমবার ভোরে অন্তত তিনটি বুলডোজার একযোগে ভবনটি ভাঙতে শুরু করে। আশপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে বাসিন্দাদের কাপড়চোপড় ও আসবাবপত্র। ইসরায়েলি পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পাশের বাড়িগুলোর ছাদেও তাদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।
এক নারী বাসিন্দা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখে আক্ষেপ করে বলেন, “ওরা আমার শোবার ঘর ধ্বংস করে দিচ্ছে।” দুপুরের মধ্যেই ভবনটির বড় একটি অংশ মাটিতে মিশে যায়।
অধিকারকর্মীদের মতে, ব্যক্তিমালিকানাধীন ফিলিস্তিনি জমিতে নির্মিত হলেও প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় ভবনটি ভাঙার তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে তারা অভিযোগ করেছেন, পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্মাণ অনুমতি পাওয়া প্রায় অসম্ভব করে তোলা হয়েছে, যার ফলে বহু পরিবার এ ধরনের উচ্ছেদের শিকার হচ্ছে।