মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ২৩ ডিসেম্বর- বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের সময় প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং প্রতিবেশী দেশটিতে সৃষ্ট সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল সামরিক অভিযানের মাধ্যমেই সম্ভব হতে পারে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য, বিশেষ করে আসামের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে।
নিউজ১৮ আয়োজিত ‘রাইজিং অসম কনক্লেভ’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভারতের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় কৌশলগত উদ্বেগ হিসেবে শিলিগুড়ি করিডোরের কথা উল্লেখ করেন। ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত এই সংকীর্ণ করিডোরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে সংযুক্ত করেছে। এর এক পাশে বাংলাদেশ এবং অন্য পাশে নেপাল অবস্থান করায় করিডোরটি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের নিরাপত্তা ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত।
এই প্রসঙ্গে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় এই অঞ্চল সুরক্ষিত করতে হলে ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার জমি নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তার ভাষায়, সেটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় হোক বা প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই হোক, ভারতকে একদিন এই সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তিনি শিলিগুড়ি করিডোর সমস্যাকে ভারতের একটি ‘অসম্পূর্ণ এজেন্ডা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এর সময় ও পদ্ধতি নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই ক্ষেত্রে কৌশলগত ধৈর্য ধরে এগোতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তার দাবি, বর্তমান সরকার ভারতের জন্য, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের পর বাংলাদেশের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সে সময়ের ভারতীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, তখন ভারতের পক্ষে বাংলাদেশের কাছ থেকে শিলিগুড়ি করিডোর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় জমি দাবি করার সুযোগ ছিল। সেই সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় আজও এই করিডোর ঘিরে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি রয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশভাগের সময় কংগ্রেসের নীতিকেই বর্তমান সমস্যার জন্য দায়ী করেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
তিনি আরও বলেন, গণভোট হলে বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ভারতকে বেছে নিত। ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে বহু মানুষ অনিচ্ছাকৃতভাবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে থেকে যেতে বাধ্য হয়, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের বাস্তবতায় রূপ নেয়। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া আসামের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তার দাবি, ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে রাজ্যটিতে হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় সমান হয়ে যেতে পারে। এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ফলে আসামের শাসনব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সবশেষে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পর বাংলাদেশ দ্রুত অস্থিরতা ও বিদ্রোহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব ভারতের নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে।
সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au