শিগগিরই খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, বাধা কোথায়
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগোলেও তা দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।…
মেলবোর্ন, ২৬ ডিসেম্বর- মিয়ানমারে প্রায় পাঁচ বছর ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখা সামরিক জান্তা এবার নির্বাচনের পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে। জান্তা বাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইং গত সপ্তাহে এক সামরিক ঘাঁটি থেকে জনগণকে ২৮ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ভোটাররা যেন এমন প্রার্থীদের বেছে নেন, যারা তাতমাদো অর্থাৎ মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে “তাল মিলিয়ে” চলতে পারে।
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, গৃহযুদ্ধের মাঠে যেটা সম্ভব হয়নি, জান্তা তা ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে অর্জন করতে চাইছে। লক্ষ্য একটাই-নিজেদের সমর্থিত রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় এনে চলমান বিদ্রোহের মুখে সামরিক শাসনকে আরও দৃঢ় করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া চাপ কিছুটা হলেও প্রশমিত করা।
তবে বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের মতে, বাস্তবতা এত সহজ নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি বর্তমানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন করে স্থিতিশীলতা ফেরানো কার্যত দুঃসাধ্য। উপরন্তু, আন্তর্জাতিক মহলের বড় একটি অংশ এই নির্বাচনকে বৈধতা দিতে নারাজ। ফলে ভোটের পর জান্তা যে বিদেশি সমর্থন পাবে, তার সম্ভাবনাও খুবই সীমিত।
নির্বাচন দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা-২৮ ডিসেম্বর ও ১১ জানুয়ারি। মিয়ানমারের ৩৩০টি শহর এলাকার মধ্যে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ২২০টি এলাকায় ভোট হবে। গবেষণা সংস্থা ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক রিচার্ড হর্সে মনে করেন, এই প্রক্রিয়া সংকটের সমাধান নয়। তাঁর ভাষায়, পরোক্ষ সামরিক শাসন সশস্ত্র বিদ্রোহ বা নাগরিক প্রতিরোধের কোনো টেকসই সমাধান দিতে পারবে না, বরং দেশটি আরও গভীর সংকটে ডুবে থাকবে।
মিয়ানমার ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা পেলেও অধিকাংশ সময়ই সামরিক বাহিনীর শাসনে থেকেছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকেই দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি ২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছিল। কিন্তু জান্তা ক্ষমতায় আসার পর দলটিকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচন কমিশন। এবারের নির্বাচনে জান্তাবিরোধী কোনো বড় দল অংশ নিচ্ছে না। ছয়টি দল নির্বাচনে অংশ নিলেও এর মধ্যে সামরিক বাহিনী–সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির জয়ই সবচেয়ে সম্ভাব্য বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউএসডিপি জয়ী হলে মিন অং হ্লাইংয়ের ক্ষমতা আরও শক্ত হবে, এমনটাই ধারণা বিশ্লেষকদের। যদিও অতীতে ব্যতিক্রমও রয়েছে। ২০১০ সালের নির্বাচনের পর সামরিক বাহিনীর সমর্থনে ক্ষমতায় আসা সাবেক জেনারেল থেইন সেইন পরবর্তী সময়ে উদার রাজনৈতিক সংস্কার শুরু করেছিলেন, যার ফলেই পরে অং সান সু চির উত্থান সম্ভব হয়।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি তখনকার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। গৃহযুদ্ধে মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য প্রায় ভেঙে পড়েছে। সাউথইস্ট এশিয়া পিস ইনস্টিটিউটের গবেষক ইয়ে মিও হেইনের মতে, সামরিক বাহিনীর আয়োজিত এই নির্বাচন সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে দেশটিতে টেকসই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au