চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৩০ ডিসেম্বর- খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তার উত্থান, ক্ষমতায় অধিষ্ঠান এবং পরবর্তীতে কারাবাসের ঘটনা ছিল এক নাটকীয় ও জটিল অধ্যায়।
তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, তিনবার নির্বাচিত সরকারপ্রধান এবং দীর্ঘদিনের বিরোধীদলের আপোষহীন নেত্রী। ক্ষমতার চূড়া থেকে কারাগারের অন্ধকার ঘর পর্যন্ত তার যাত্রা রাজনীতির বিবর্তন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার রূপান্তর বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১৯৪৫ সালে ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ব্যক্তিগত শোকের মধ্য দিয়ে। ১৯৮১ সালে তার স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তিনি দ্রুতই বিএনপির নেতৃত্বে উঠে আসেন। সেই বছরই তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। তখন দেশে সামরিক শাসন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল, আর তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্রে পরিণত করেন।
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক শাসনের পতন হওয়ার পর গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরে দেশ। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির জয়ে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার প্রথম মেয়াদে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনর্বহাল, অর্থনৈতিক খাত সংস্কার এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মতো সিদ্ধান্ত ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর আবার বিরোধীদলে ফিরে যান তিনি।
তবে ২০০১ সালে জোটবদ্ধ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে খালেদা জিয়া দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন। এই মেয়াদে জঙ্গিবাদ দমন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা গুরুত্ব পায়। তবে দুর্নীতি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিরোধীদের দমন পীড়ন নিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে।
২০০৬ সালের শেষ দিকে রাজনৈতিক সঙ্কট তীব্র হয়ে উঠলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা যায় এবং ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় এক বছর কারাবন্দী থাকার পর তিনি মুক্তি পান।
২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় বিপর্যয়ের মধ্যেও তিনি বিরোধী রাজনীতিকে নেতৃত্ব দিয়ে যান।
২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতা, মামলা, অনুপস্থিত নির্বাচন ও সংঘর্ষ আরও বাড়তে থাকে।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ার পর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। পরে অন্যান্য মামলার সাজা যোগ হয়ে সময়সীমা বাড়তে থাকে। সে সময়কার সরকার ও বিএনপির রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি।
কারাবন্দী অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি সমস্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২০২০ সালে করোনাকালের শুরুতে মানবিক কারণে সরকার তার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে বাসায় চিকিৎসার অনুমতি দেয়। এরপর দীর্ঘ দিন গৃহবন্দী থেকে তিনি আবারও হাসপাতালে যেতে শুরু করেন।
২০২৩ সাল থেকে তার লিভারের অবস্থা সংকটজনক হলে দল ও পরিবার তাকে বিদেশে নেওয়ার দাবি জানায়, তবে অনুমতি পাওয়া যায়নি। বছর ঘুরে তার শারীরিক জটিলতা আরও বাড়ে।
ক্ষমতা ও কারাগারের এই দুই প্রান্তিক অবস্থার মধ্যে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক ধারার একটি প্রতীকী গল্প। তিনি ক্ষমতার প্রয়োগ, বিরোধী রাজনীতি, দমন পীড়ন, গণআন্দোলন ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছেন। তার সমর্থকদের কাছে তিনি দৃঢ়তা ও সংগ্রামের প্রতীক, আর সমালোচকদের কাছে রাজনৈতিক বিতর্কের উৎস।
এসব নাটকীয় ঘটনার চির অবসান হলো আজ তার মৃত্যুর খবর ঘোষণার মাধ্যমে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au