মিয়ানমারে ভোট ঘিরে ছয় মাসে ৭০০ নাগরিক নিহত: জাতিসংঘ
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- মিয়ানমারে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ছয় মাসে অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে…
মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি: ২০২৫ সালে অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশ করা অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। ইউরোপের বহিঃসীমান্তে শনাক্ত হওয়া অনিয়মিত অভিবাসীদের জাতীয়তার তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম স্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাগুলো।
ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের অনিয়মিত সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে। সীমান্ত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও বাংলাদেশিদের ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসন থামেনি। বরং আগের বছরগুলোর তুলনায় এই প্রবণতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যানেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা যায়, ভূমধ্যসাগরীয় বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা অন্যতম বড় অংশ। বাংলাদেশিদের পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছেন মিসর ও আফগানিস্তানের নাগরিকরা।
ফ্রন্টেক্সের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিরা মূলত সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগর রুট ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ইতালির উপকূল এবং গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে পৌঁছানোর প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লিবিয়াভিত্তিক মানবপাচার নেটওয়ার্কগুলো এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে বাংলাদেশিদের যাত্রা সহজ করে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের ইউরোপমুখী অভিবাসনের পেছনে রয়েছে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ। দেশের ভেতরে কর্মসংস্থানের সংকট, আয় বৃদ্ধির সীমিত সুযোগ এবং বিদেশে ভালো জীবনের প্রত্যাশা অনেককে অনিয়মিত পথে পাড়ি জমাতে উদ্বুদ্ধ করছে। মানবপাচার চক্রগুলো এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিপজ্জনক যাত্রায় প্রলুব্ধ করছে।
ফ্রন্টেক্স মনে করছে, বাংলাদেশ থেকে অভিবাসনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতাই প্রধান চালিকা শক্তি। সীমিত কর্মসংস্থান ও আয়ের অনিশ্চয়তা অনেককে বৈধ পথ এড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে।
ইউরোপীয় সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই প্রবণতা নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশিরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানো শীর্ষ জাতীয়তাগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে ২০২৫ সালে এসে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের জন্যও নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশিদের পাশাপাশি মিসরীয় ও আফগান নাগরিকরাও ইউরোপে অনিয়মিতভাবে পৌঁছানোদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। মিসরীয়রা মূলত ইতালি ও গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে পৌঁছাচ্ছেন, আর আফগানরা স্থল ও সমুদ্রপথ মিলিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছেন।
সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় সীমান্তে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর হলেও বাংলাদেশিদের অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সীমিত বলেই মনে করছে ফ্রন্টেক্স।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au