মিয়ানমারে ভোট ঘিরে ছয় মাসে ৭০০ নাগরিক নিহত: জাতিসংঘ
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- মিয়ানমারে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ছয় মাসে অন্তত ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে…
মেলবোর্ন, ৯ জানুয়ারি- বিশ্বব্যবস্থা যেন এমন এক অবস্থায় না পৌঁছে যায়, যেখানে নীতিহীন শক্তিরা নিজেদের ইচ্ছামতো দেশ ও অঞ্চল দখল করে নেয়- এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ‘ডাকাতদের আড্ডা’য় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে এক সিম্পোজিয়ামে দেওয়া বক্তব্যে স্টাইনমায়ার বলেন, বৈশ্বিক গণতন্ত্র এখন নজিরবিহীন চাপের মুখে। তাঁর ভাষায়, এমন এক সময় এসেছে, যখন শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো নীতি ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেদের স্বার্থে যা খুশি তাই করার প্রবণতা দেখাচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর এই বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুত হওয়া এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার দিকেও ইঙ্গিত রয়েছে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টাইনমায়ার বলেন, রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল এবং ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন ছিল বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি বড় ঐতিহাসিক মোড়। তবে তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আচরণ সেই ধারাবাহিকতায় আরেকটি গভীর ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই পর্যায়ে এসে আমরা দেখছি আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধে ভাঙন ধরেছে। অথচ এই দেশটিই একসময় আন্তর্জাতিক এই বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিয়েছিল।”
স্টাইনমায়ারের আশঙ্কা, যদি এই প্রবণতা রোধ করা না যায়, তবে বিশ্ব এমন এক বাস্তবতায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে অঞ্চল বা পুরো দেশকে কয়েকটি পরাশক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, “মূল প্রশ্ন হলো—কীভাবে বিশ্বকে এমন এক অবস্থায় যাওয়া থেকে ঠেকানো যায়, যেখানে এটি ডাকাতদের আড্ডায় পরিণত হবে, আর সবচেয়ে নীতিহীন শক্তিরা নির্বিঘ্নে যা খুশি তাই দখল করে নেবে।”
জার্মান প্রেসিডেন্টের ভূমিকা আনুষ্ঠানিক হলেও তাঁর বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ সক্রিয় রাজনীতিকদের তুলনায় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন।
স্টাইনমায়ার বলেন, বর্তমান হুমকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে শুধু সমালোচনা নয়, কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি। তিনি বিশ্বব্যবস্থা রক্ষায় ইউরোপের পাশাপাশি ব্রাজিল ও ভারতের মতো উদীয়মান শক্তিগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সতর্কবার্তা নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতে শক্তির ভারসাম্য ও নীতিনির্ভর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের প্রতিফলন।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au