বৃহস্পতিবার লংউডের দাবানল প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: VicEmergency
মেলবোর্ন ৯ জানুয়ারি: ভিক্টোরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছড়িয়ে পড়া একাধিক দাবানলের কারণে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’ অর্থাৎ চরম ভয়াবহ অগ্নিঝুঁকির ঘোষণা দিয়েছে, যা জীবন ও সম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। যেসব এলাকায় আগুন সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে বসবাসকারী মানুষদের জানানো হয়েছে, এখন আর এলাকা ছাড়ার সময় নেই—এখনই আশ্রয় নিতে হবে, নইলে জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মেলবোর্ন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে লংউডে ভয়াবহ দাবানল বুধবার রাত থেকে জ্বলছে এবং তীব্র গরম ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। শুক্রবার ওই এলাকায় আগুনের ঝুঁকি ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। বলা হচ্ছে, এটি হতে পারে ২০১৯-২০ সালের ব্ল্যাক সামার দাবানলের পর সবচেয়ে বড় দাবানলের ঝুঁকি।

লংউড এলাকায় বৃহস্পতিবার ভয়াবহ দাবানলে বহু বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবি: VicEmergency
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেভিয়েট, ক্রাইটন্স ক্রিক, ড্রপমোর, গোবর, গুরাম, হাইল্যান্ডস, কানুম্ব্রা, কেলভিন ভিউ, লকসলে, লংউড, লংউড ইস্ট, রাফি, স্ট্রাথবোগি, টারকোম্ব, টেরিপ টেরিপ ও আপটন হিল এলাকার বাসিন্দারা এখনই ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেবেন।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে:
“আপনি বিপদের মধ্যে আছেন। বেঁচে থাকার জন্য এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। এখন এলাকা ছাড়ার সময় নেই।”
তবে আগুনের দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকের মানুষদের যত দ্রুত সম্ভব এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভিক্টোরিয়ার সব রিজিওনাল অঞ্চলই বর্তমানে ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’ অথবা ‘এক্সট্রিম’ দাবানল ঝুঁকির আওতায় রয়েছে। ছবি: CFA
এলাকা ছাড়ার নির্দেশ
ক্যাথকিন, কেভিয়েট, ঘিন ঘিন, হাইল্যান্ডস, কানুম্ব্রা, কিলিংওর্থ, কোরিয়েলা, লাইমস্টোন, মোলসওয়ার্থ, হোয়ানরেগারওয়েন, ইয়ার্ক, আনকোনা, ফসেট, গুরাম, মার্টন, স্ট্রাথবোগি, স্ট্রাথবোগি সাউথ ও উডফিল্ড এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যেতে বলা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে:
“এখনই চলে যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। পরিস্থিতি খারাপ হলে জরুরি সেবাকর্মীরা আপনাকে সাহায্য করতে নাও পারতে পারেন।”
ত্রাণকেন্দ্র ও সড়ক বন্ধ
ত্রাণকেন্দ্র খোলা হয়েছে:
বন্ধ সড়কগুলো:
-
হিউম ফ্রিওয়ে (Violet Town থেকে Seymour পর্যন্ত)
-
ইউরোয়ার ক্যাম্পবেল স্ট্রিট ও ক্লিফটন স্ট্রিট
-
ফেইথফুল রোড ও হিউম ফ্রিওয়ে
-
টারকোম্ব রোড ও হিউম ফ্রিওয়ে
-
মারুনডা হাইওয়ে (Yea থেকে Maindample পর্যন্ত)
৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা ও ঝড়ো হাওয়া
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার মেলবোর্ন ও আশপাশে তাপমাত্রা ৪৩ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াতে পারে এবং ঝড়ো বাতাসের গতি ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পৌঁছাতে পারে।
আবহাওয়াবিদ সারা স্কালি বলেন,
“মেলবোর্নের বাইরের এলাকাগুলোও এই তাপপ্রবাহে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। ভিক্টোরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াজুড়ে ৪৫ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা হতে পারে।”
নর্থ সেন্ট্রাল, নর্দার্ন কান্ট্রি, সাউথ ওয়েস্ট ও উইমেরা অঞ্চলে ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’ সতর্কতা জারি হয়েছে।
সেন্ট্রাল, ইস্ট গিপসল্যান্ড, ম্যালি, নর্থ ইস্ট, ওয়েস্ট ও সাউথ গিপসল্যান্ড অঞ্চলে রয়েছে ‘এক্সট্রিম’ সতর্কতা।
দাবানল বাড়ছেই
Country Fire Authority-এর প্রধান কর্মকর্তা জেসন হেফারনান বলেন,
“লংউডের আগুন গত রাতেও আরও ছড়িয়েছে। আমাদের টিম প্রাণপণে কাজ করছে, কিন্তু আগুনের পরিধি বাড়ছে এবং আজ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”
এদিকে ভিক্টোরিয়া-এনএসডব্লিউ সীমান্তের কাছে মাউন্ট লসন স্টেট পার্কে ভয়াবহ আগুন জ্বলছে।
বাংগিল, ওয়ালওয়া, কুডজেওয়া, কোয়েটং, কলাক কলাক, নারিয়েল ভ্যালি ও আশপাশের বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যেতে বলা হয়েছে।
কঠোর সতর্কবার্তা
ভিক্টোরিয়ার জরুরি পরিষেবা মন্ত্রী ভিকি ওয়ার্ড বলেন,
“ক্যাটাস্ট্রফিক মানে প্রকৃত অর্থেই বিপর্যয়। ভিক্টোরিয়া পৃথিবীর অন্যতম দাবানলপ্রবণ এলাকা। শুক্রবার আমরা এমন আগুনের মুখোমুখি হচ্ছি যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে এবং জীবন ও সম্পদের বড় ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, বজ্রঝড় ও শুষ্ক বজ্রপাত থেকেও নতুন আগুন জ্বলে উঠতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।
ভিক্টোরিয়ার মানুষকে বলা হয়েছে- এই মুহূর্তে সরকারি নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করাই বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়।
এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর সার্বক্ষণিক পেতে ওটিএন বাংলার ফেসবুক পেজ ফলো করুন
https://www.facebook.com/profile.php?id=61573657376422