‘ভারতীয় বোর্ড আইসিসিকে নিয়ন্ত্রণ করে’
মেলবোর্ন,৬ মে- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সাইমন হারমার। তার দাবি, বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক…
মেলবোর্ন ৯ জানুয়ারি- সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের একাধিক এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির সেনাবাহিনী ও কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আলেপ্পোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড এক বিবৃতিতে আশরাফিয়েহ, শেখ মাকসুদ, বানি জেইদ, আল-সিরিয়ান, আল-হুল্লুক ও আল-মিদান এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকার ঘোষণা দেয়। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সব ধরনের চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
আলেপ্পোর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক আল জাজিরাকে জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর আশরাফিয়েহ ও শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে এক লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শহরের বাইরে অবস্থান করছে।
আশরাফিয়েহ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হওয়া ৪৩ বছর বয়সী রানা ইসা এএফপিকে বলেন, স্নাইপার হামলার ভয়ে অনেক মানুষ এলাকা ছাড়তেও সাহস পাচ্ছেন না। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেরিয়ে আসার সময় তাদের সন্তানরা আতঙ্কে কাঁপছিল। তার ভাষায়, পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ ও অনিশ্চয়তায় ভরা।
এই সংঘর্ষ এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ২০২৫ সালের মার্চে স্বাক্ষরিত এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে দামেস্ক সরকারের সঙ্গে আলোচনা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এসডিএফ দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
চলতি সপ্তাহে আলেপ্পোতে সংঘর্ষে অন্তত ২২ জন নিহত এবং ১৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সিরীয় সেনাবাহিনীর অভিযোগ, এসডিএফ বেসামরিক এলাকায় আর্টিলারি ও মর্টার হামলা চালিয়েছে। তবে এসডিএফ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সরকারপন্থি বাহিনীর নির্বিচার গোলাবর্ষণের কারণেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এসডিএফ-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আশরাফিয়েহ এলাকা থেকে সরে যাওয়ার পর সেখানে সরকারি বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এসব ইউনিট বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কাজ করছে।
এদিকে এসডিএফ কমান্ডার মাজলুম আবদি বলেন, আলেপ্পোর সহিংসতা দামেস্ক সরকারের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক আলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার মধ্যেই কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় ট্যাংক ও আর্টিলারি মোতায়েন করা হয়েছে, যার ফলে ব্যাপক বেসামরিক বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au