রাষ্ট্রের উদাসীনতায় আটকে বিচার, স্বজনদের নীরব কান্নাই যেন ‘তীব্র প্রতিবাদ’
মেলবোর্ন, ৬ মার্চ- যশোরে উদীচীর সম্মেলনে ভয়াবহ বোমা হামলার ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি বিচার প্রক্রিয়া। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা যায়নি, চূড়ান্ত শাস্তিও…
মেলবোর্ন, ২৬ জানুয়ারি: মেলবোর্নে সনাতন আর্ট অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ভিক্টোরিয়া (SACAV)-এর উদ্যোগে গত ২৫ জানুয়ারি ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক চেতনা ও মানবিক প্রতিবাদের এক অনন্য সমন্বয়ে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে। সম্পূর্ণ অলাভজনক এই সংগঠনটি সনাতন শিল্প, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে গতবছর ভিক্টোরিয়াতে যাত্রা শুরু করে।
সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের অংশগ্রহণে পরিবেশ পরিণত হয় ভক্তি, আনন্দ ও ঐক্যের মিলনমেলায়। পূজায় বাংলাদেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি অন্যান্য ধর্মের মানুষ, নেপাল, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন, যা আয়োজনটিকে বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত করে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে মেলবোর্নে সনাতন আর্ট অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ভিক্টোরিয়া (SACAV)-এর সংহতির বার্তা। ছবি: রিমন চক্রবর্তী
পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় প্রতিবাদী পোস্টার ও বার্তা, যেখানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ জানানো হয় এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি ও মানবিক সহমর্মিতার প্রকাশ ঘটে।
আয়োজকদের মতে, এসব বার্তা ছিল মানবাধিকারের পক্ষে এবং ধর্মীয় সহনশীলতার পক্ষে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রতিফলন।
সংগঠনের সভাপতি রাসেন্দ্র কুমার দাস বলেন, SACAV বাঙালি প্রবাসী জীবনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে একত্রে ধারণ করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, সরস্বতী পূজার মাধ্যমে আমরা শুধু ধর্মীয় আচার পালন করিনি, বরং প্রবাসী সমাজে ঐক্য, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে জীবন্ত রাখতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ রায় বলেন, প্রবাসী জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও সনাতন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই SACAV-এর মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, সরস্বতী পূজার আয়োজন শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, মানবিক চেতনা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শক্তিশালী প্রকাশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো এবং বিশ্বব্যাপী নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়াও এই আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
SACAV কর্তৃপক্ষ জানায়, সংগঠনটি প্রবাসী সমাজে সনাতন সংস্কৃতির চেতনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে কাজ করছে, যাতে ঐতিহ্য কেবল স্মৃতিতে নয়, জীবন্ত সামাজিক বাস্তবতায় রূপ নেয়।
পূজার আনুষ্ঠানিকতা, হাতেখড়ি, প্রসাদ বিতরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আরতির মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজন এক গভীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক আবহে সম্পন্ন হয়। শিশুদের জন্য আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, যা ছোটদের সৃজনশীলতা ও আনন্দে পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

SACAV-এর আয়োজনে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত Facebook page

সরস্বতী পূজায় শিশুদের হাতেখড়ি থেকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব। ছবি: সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান নেপালিজ মাল্টিকালচারাল সেন্টার (ANMC)-এর সভাপতি ড. তিলক পোখারেল। আরোও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালিজ মাল্টিকালচারাল সেন্টার (ANMC)-এর পুরোহিত ও আন্তর্জাতিক অনুপ্রেরণামূলক বক্তা বাল ব্যাস শরণ নেউপানে। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার পরিচালনা করেন পণ্ডিত নারায়ণ প্রসাদ।
SACAV মনে করে, প্রবাসী জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও সংস্কৃতি ও মানবিক দায়িত্ববোধকে একত্রে ধারণ করাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার। তাই সরস্বতী পূজার এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা প্রবাসী সমাজের আত্মপরিচয়, ঐক্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিফলনে পরিণত হয়।

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au