আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৯ জানুয়ারি- বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বড় ধরনের রূপান্তরের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হলেও বাস্তবে তা হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পরও ঢাকা ও মস্কোর সম্পর্ক মূলত ধারাবাহিকই থেকেছে, যা দুই দেশের বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা এই ধারাবাহিকতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দার খোজিন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের কথা বলেন এবং দলটির নির্বাচনী প্রচারণার জন্য শুভকামনা জানান। এর পাশাপাশি রাশিয়ার বৃহৎ সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউরালকেম বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন পটাশ উপহার দেয়। একই সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা আসে এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনা মিলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয়, সরকার পরিবর্তনের পরও রুশ–বাংলাদেশ অংশীদারত্ব কার্যত বহাল রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা ও মস্কোর সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। রুশ অস্ত্র ক্রয়, রূপপুর প্রকল্প, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, চট্টগ্রামে রুশ নৌজাহাজের সফর এবং জাতিসংঘে রাশিয়াবিরোধী প্রস্তাবে বাংলাদেশের অবস্থান তার উদাহরণ। তবে এই সম্পর্ক কখনোই পূর্ণাঙ্গ জোটে পরিণত হয়নি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাশিয়ার অবস্থান, ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে ঢাকার সতর্ক অবস্থান সেই সীমারেখা স্পষ্ট করে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাশিয়া দ্রুত অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বীকৃতি দিলেও তাদের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ঘটনাটিকে পশ্চিমা সমর্থিত রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরে। তবু বাস্তবতায় দেখা যায়, নতুন সরকারও রাশিয়ার সঙ্গে আগের বহু নীতি বজায় রেখেছে। জাতিসংঘে ভোটাভুটি থেকে শুরু করে বাণিজ্য, সামরিক মহড়া ও নৌবাহিনীর সফর সবই চলমান রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে রাশিয়ার কৌশলগত উপস্থিতি বড় ধাক্কা খায়নি।
একই সঙ্গে রাশিয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অবস্থান কিছুটা প্রসারিত করেছে। ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও এখন মস্কো অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা রাশিয়ার বাস্তববাদী কূটনীতিরই পরিচায়ক, কারণ দলটি অতীতে ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সমালোচনা করেছিল।
এই সময়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে শ্রম অভিবাসন। রাশিয়ায় শ্রমিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশিরা প্রায় ২ হাজার ৮০০ ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। উপসাগরীয় দেশগুলোতে শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ায় রাশিয়ার বাজার বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যদিও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে সম্পর্কের কিছু বিতর্কিত দিকও রয়েছে। রুশ সেনাবাহিনীতে বাংলাদেশিদের নিয়োগ এবং ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণ প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ভাটা পড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার অস্ত্র সরবরাহ সীমিত হয়েছে, ফলে বাংলাদেশ বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে।
সব মিলিয়ে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর রুশ–বাংলাদেশ সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে বদলায়নি। আদর্শ বা দলীয় আনুগত্যের চেয়ে পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তববাদই এই সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে গেছে। উদীয়মান বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থায় এই বাস্তববাদী অংশীদারত্বই দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au