চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৩০ জানুয়ারি- জাপান মানেই কেবল টোকিওর ঝলমলে আলো বা কিয়োটোর ঐতিহ্যবাহী মন্দির- এমন ধারণা এখন আর পর্যটকদের কাছে যথেষ্ট নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমণপিপাসুরা খুঁজে ফিরছেন জাপানের সেই অচেনা অধ্যায়গুলো, যেখানে প্রকৃতি, লোককথা আর সংস্কৃতি একসূত্রে মিশে আছে। এমনই এক রহস্যময় জায়গা হলো হাকোনের ওওয়াকুদানি- একটি সক্রিয় আগ্নেয় উপত্যকা, যেখানে কালো ডিম খেলে নাকি জীবনের আয়ু বাড়ে সাত বছর।
ধোঁয়ায় ঢাকা পাহাড়ি এই উপত্যকায় বাতাসে ভাসে সালফারের গন্ধ। মাটির ফাটল থেকে বেরিয়ে আসে গরম বাষ্প। আর ঠিক এই প্রতিকূল পরিবেশেই জন্ম নিয়েছে এক শতাব্দীপ্রাচীন বিশ্বাস, যা আজও মানুষকে টেনে আনে দূরদূরান্ত থেকে।
আগ্নেয় উপত্যকার পথে যাত্রা
টোকিও থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওওয়াকুদানি। একদিনের ভ্রমণ হিসেবেই এখানে যাওয়া যায়। যাত্রাপথটিও কম আকর্ষণীয় নয়- ট্রেন, পাহাড়ি রেল, কেবল কার পেরিয়ে হাকোনে রোপওয়ে যখন আগ্নেয় উপত্যকার ওপর দিয়ে ভেসে চলে, তখন নিচে দেখা যায় পাথুরে ভূমি আর সাদা ধোঁয়ার অবিরাম নৃত্য।
ওওয়াকুদানি স্টেশনে নামলেই বোঝা যায়, এটি কোনো সাধারণ পর্যটনকেন্দ্র নয়। প্রকৃতি এখানে জীবন্ত, শ্বাস নেয়।
কেন ওওয়াকুদানি আলাদা
ওওয়াকুদানি শব্দের অর্থ ‘মহা ফুটন্ত উপত্যকা’। প্রায় তিন হাজার বছর আগে মাউন্ট হাকোনের অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এই অঞ্চলের সৃষ্টি। আজও এটি সক্রিয় আগ্নেয় এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার গরম গ্যাস আর খনিজসমৃদ্ধ পানিই তৈরি করেছে এলাকার সবচেয়ে বিখ্যাত খাদ্য- ‘কুরো-তামাগো’, অর্থাৎ কালো ডিম।
ডিম কালো হয় যেভাবে
এই ডিমগুলো আসলে সাধারণ মুরগির ডিমই। ওওয়াকুদানির সালফারসমৃদ্ধ গরম পানিতে দীর্ঘ সময় সেদ্ধ করার ফলে ডিমের খোসা কালো হয়ে যায়। পানির খনিজ উপাদান খোসার লোহার সঙ্গে বিক্রিয়া করে এই রঙের সৃষ্টি করে।
ভেতরের অংশে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। ডিম ভাঙলে দেখা যায় স্বাভাবিক সাদা সেদ্ধ ডিম, স্বাদেও তেমন পার্থক্য নেই—শুধু হালকা সালফারের গন্ধ টের পাওয়া যায়।
সাত বছর আয়ুর বিশ্বাসের জন্ম
কালো ডিম ঘিরে থাকা এই বিশ্বাসের শিকড় জাপানের ইতিহাসে গভীরভাবে প্রোথিত। হেইয়ান যুগের বৌদ্ধ সাধক কোবো দাইশি, যিনি কুকাই নামেও পরিচিত, এই বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত। লোককথা অনুযায়ী, একসময় বিপজ্জনক বলে পরিচিত ওওয়াকুদানিতে তিনি এসে স্থানীয় মানুষের কষ্ট লাঘবে দীর্ঘায়ুর প্রতীক ‘এনমেই জিজো’ মূর্তি স্থাপন করেন।
তিনি গরম পানিতে সেদ্ধ ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন, যা স্বাস্থ্য ও প্রাণশক্তি বাড়ায় বলে বিশ্বাস করা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণা রূপ নেয় জনপ্রিয় বিশ্বাসে-একটি কালো ডিম খেলে আয়ুবাড়ে সাত বছর। জাপানি সংস্কৃতিতে সাত সংখ্যাটি সৌভাগ্য ও পূর্ণতার প্রতীক হওয়ায় এই বিশ্বাস আরো শক্তিশালী হয়।
আজও বলা হয়, দুটির বেশি ডিম খাওয়া উচিত নয়-কারণ দীর্ঘায়ু কোনো তাড়াহুড়োর বিষয় নয়।
বিশ্বাস, সংস্কৃতি আর অভিজ্ঞতা
ওওয়াকুদানিতে কালো ডিম খাওয়াটা কেবল খাবার নয়, অনেকের কাছে এটি একটি আচার। আগ্নেয় উপত্যকার মাঝে দাঁড়িয়ে ডিম খাওয়ার মুহূর্তটি যুক্তির চেয়ে অনুভবের বেশি। স্থানীয়দের কাছে এটি ঐতিহ্যের অংশ, আর বিদেশি পর্যটকদের কাছে প্রকৃতি ও লোককথার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার সুযোগ।
সতর্কতা জরুরি
ওওয়াকুদানি সক্রিয় আগ্নেয় অঞ্চল হওয়ায় নিরাপত্তা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস নিঃসরণ বা ভূমিকম্পের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে এলাকা বন্ধ করে দেয়। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়।
তবু সব সতর্কতার মাঝেও, কালো ডিম আর দীর্ঘায়ুর বিশ্বাস ওওয়াকুদানিকে করে তুলেছে জাপানের সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক গন্তব্যগুলোর একটি- যেখানে একটি সাধারণ ডিম হয়ে ওঠে শতাব্দীপ্রাচীন গল্পের বাহক।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au