আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা বেটসের
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- দীর্ঘ দুই দশকের গৌরবময় ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা তারকা সুজি বেটস। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেই…
মেলবোর্ন ৩১ জানুয়ারি: অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামী উগ্রবাদ নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন প্রশংসা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। তার বক্তব্যকে “সম্পূর্ণ সঠিক” বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক লিবারেল সিনেটররা, যদিও মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও সরকারের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভাজনমূলক বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
স্কাই নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক লিবারেল সিনেটর হলি হিউজেস মন্তব্য করেছেন, বিরোধী দলকে মরিসনের বক্তব্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং ইসলামি উগ্রবাদ মোকাবিলায় আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক অ্যান্টিসেমিটিজম সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মরিসন বলেন, বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলায় উগ্র ইসলামবাদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার প্রতিক্রিয়ায় এ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় নেতাদের এমন সংস্কারের পক্ষে কাজ করতে হবে, যা মুসলিম সম্প্রদায়কে উগ্রবাদী প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারে।
মরিসনের ভাষায়, “এই ধরনের বিষয়কে নিষিদ্ধ বা আলোচনার বাইরে রাখলে উগ্রবাদীরা অন্ধকারে থেকে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পায়।” তিনি দাবি করেন, দেশে জন্ম নেওয়া দুই উগ্র ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীও এমন পরিবেশেই চরমপন্থায় প্রভাবিত হয়েছিল।
হলি হিউজেস বলেন, মরিসনের বক্তব্য বিরোধী দলের নিয়মিতভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল। তার মতে, ইসলাম ধর্মকে সামগ্রিকভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে না; বরং উগ্রবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি।
তবে মুসলিম নেতৃবৃন্দ মরিসনের বক্তব্যকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল (ANIC) এক বিবৃতিতে মরিসন ও লিবারেল সিনেটর অ্যান্ড্রু ব্র্যাগকে “বেপরোয়া” আখ্যা দিয়ে বলে, সন্ত্রাসবাদকে ইসলাম ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করা ভুল এবং নৈতিক ও বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। সংগঠনটি দাবি করে, কয়েকজন অপরাধীর কর্মকাণ্ডের দায় পুরো মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো অনুচিত।
মাল্টিকালচারাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী অ্যান অ্যালি মরিসনের বক্তব্যকে “দায়িত্বজ্ঞানহীন ও হতাশাজনক” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের বক্তব্য ঐতিহাসিক স্টেরিওটাইপকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং সন্ত্রাসী হামলার দায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি করে।
মন্ত্রী অ্যান অ্যালি আরও বলেন, বন্ডাই হামলার পর মুসলিম নেতারা প্রথম দিকেই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার মতে, মরিসনের বক্তব্য বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
এদিকে, আলবানিজ সরকার ঘৃণাত্মক বক্তৃতা ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় নতুন আইন পাস করেছে, যা লিবারেল পার্টির সমর্থন পেয়েছে। তবে এই আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে বলে সমালোচনাও রয়েছে।
সাবেক স্পিকার ব্রনউইন বিশপ বলেন, এই আইন আসলে উগ্র ইসলাম নিয়ে বিতর্ককে দমন করার উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে। তার মতে, আইনটি ঘৃণাত্মক বক্তব্যের বিরুদ্ধে নয়, বরং এক ধরনের “ধর্মনিন্দা আইন” হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মরিসনের বক্তব্য অস্ট্রেলিয়ায় সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। একদিকে নিরাপত্তা ও উগ্রবাদ মোকাবিলার দাবি, অন্যদিকে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সামাজিক ঐক্যের প্রশ্ন—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খোঁজাই এখন অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: স্কাই নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au