জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি এএফডির ঐতিহাসিক জয়
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট…
মেলবোর্ন, ১ ফেব্রুয়ারি- ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শনিবার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। পুলিশ স্টেশন, আবাসিক বাড়ি এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের তাবু লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
গাজার চিকিৎসক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের শেখ রাদওয়ান এলাকায় অবস্থিত একটি পুলিশ স্টেশনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের বোমা হামলায় ১০ জন পুলিশ সদস্য ও বন্দী নিহত হন। হামাস-নিয়ন্ত্রিত পুলিশ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হতাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, একই সময়ে উত্তর-মধ্য গাজার অন্তত দুটি আবাসিক বাড়ি এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দেওয়া একটি তাবু শিবিরেও পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
গাজা সিটির বিভিন্ন স্থানে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি বহুতল ভবনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট আগুনে পুড়ে কালচে হয়ে গেছে। দেয়াল ভেঙে পড়েছে, ভবনের ভেতর ও বাইরে রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে কংক্রিট ও ধ্বংসাবশেষ। আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অনেককে এলাকা ছাড়তে দেখা গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামাস ও সহযোগী সংগঠন ইসলামী জিহাদের কমান্ডার এবং তাদের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি, শুক্রবার দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকায় একটি সুড়ঙ্গ থেকে আটজন বন্দুকধারী বেরিয়ে আসার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই ঘটনায় তিনজন নিহত হন এবং হামাসের এক স্থানীয় কমান্ডারকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে এসব বিষয়ে হামাস কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। অপরদিকে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের ওপর চাপ বাড়িয়েছে শান্তি চুক্তির পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। আলোচনায় হামাসের অস্ত্র ত্যাগ, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের মতো প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই হামলা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সুত্রঃরয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au