আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের ঘোষণা বেটসের
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- দীর্ঘ দুই দশকের গৌরবময় ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা তারকা সুজি বেটস। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেই…
মেলবোর্ন, ১ ফেব্রুয়ারি: অস্ট্রেলীয়দের কাছে প্রিয় ছুটির গন্তব্য বালিসহ ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরের শুরু থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন দণ্ডবিধি। এতে বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক, একসঙ্গে বসবাস (কোহাবিটেশন) ও প্রকাশ্যে মাতাল থাকার মতো বিষয়গুলোকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে অনেক অস্ট্রেলীয় পর্যটকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ কি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে?
গত ২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় ইন্দোনেশিয়ার নতুন ক্রিমিনাল কোড। ২০২৫ সালে যেখানে প্রায় ১৭ লাখ অস্ট্রেলীয় ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ করেছেন, সেখানে নতুন আইন নিয়ে আলোচনাও বেড়েছে। তবে দেশটির আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম মেনে চললে বিদেশি পর্যটকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
আইন বিশেষজ্ঞ ও পিপলস ল’ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা রেত্নো মুর্নির মতে,
“নতুন দণ্ডবিধি পর্যটকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়নি। এটি ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন এলাকাগুলোকে হঠাৎ করে বিদেশিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে না।”
তিনি আরও বলেন, বাস্তবে পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে, যতক্ষণ পর্যটকেরা স্থানীয় আইন ও বিধি মেনে চলবেন। অপরাধে জড়িত না হলে কোনো বাড়তি বিধিনিষেধ নেই।

স্থানীয় আইন ও সংস্কৃতি মেনে চললে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ঝুঁকি নেই বলে মত আইনজ্ঞদের। Photo by CEphoto, Uwe Aranas / © CEphoto, Uwe Aranas (alternatively)
নতুন এই দণ্ডবিধি মূলত ১৯১৮ সালে ডাচ ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত পুরোনো আইনের সংশোধিত রূপ। ২০২২ সালে আইনটি পাস হলেও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এতে পুরোনো কিছু আইন অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, কিছু সংশোধন করা হয়েছে এবং কয়েকটি নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো বিদেশি নাগরিকের উচিত ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশের আগে এই নতুন আইন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া।
ইন্দোনেশিয়ায় মাদক আইন বিশ্বের অন্যতম কঠোর। নতুন দণ্ডবিধিতেও এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মাদক সেবনের অভিযোগে কারাদণ্ড থেকে শুরু করে পাচারের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে।
রেত্নো মুর্নি সতর্ক করে বলেন, বিদেশি পর্যটকদের অবশ্যই মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এখানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর রয়েছে।
কিছু মানবাধিকার আইনজীবীর মতে, নতুন দণ্ডবিধি অতিরিক্ত অপরাধীকরণের পথ খুলে দিতে পারে। ইন্দোনেশিয়ান লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইসনুর মনে করেন,
“নতুন দণ্ডবিধিতে এমন কিছু অপরাধ যুক্ত হয়েছে, যা আগে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত ছিল না। এতে নাগরিক স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।”
তবে অন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ ‘ভীতিকর’ ধারাই সাধারণভাবে প্রয়োগযোগ্য নয়। অনেক ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা অন্যের ক্ষতির প্রমাণ ছাড়া এসব ধারা কার্যকর হয় না।
রেত্নো মুর্নির ভাষায়,
“যাঁরা শালীন আচরণ করেন, স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান করেন এবং বৈধ কাগজপত্র ব্যবহার করেন—তাঁদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ স্পষ্ট—ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমণের সময় স্থানীয় আইন মেনে চলা, সামাজিক রীতিনীতি সম্মান করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চললেই নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ছুটি কাটানো সম্ভব।
অনুবাদ: OTN Bangla
লেখক: আইশা লিউলিন (ফ্রিল্যান্স লেখক, ইন্দোনেশিয়া)
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au