নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৪
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক…
মেলবোর্ন,২ ফেব্রুয়ারি- পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে ধারাবাহিক বোমা ও বন্দুক হামলায় গত দুই দিনে বেসামরিক নাগরিক, নিরাপত্তাকর্মী এবং হামলাকারী মিলিয়ে অন্তত ১৯৩ জন নিহত হয়েছেন। প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে বেলুচিস্তানের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সহিংসতার একটি।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক, ১৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৪৫ জন হামলাকারী নিহত হয়েছেন। তিনি জানান, হামলাগুলো একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছিল এবং রোববারের মধ্যে সব এলাকাতেই নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ অন্তত ১২টি শহরে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর স্থাপনা, কারাগার এবং বিভিন্ন সরকারি ভবন লক্ষ্য করে গ্রেনেড ও বন্দুক হামলা চালানো হয়। বেশ কয়েকটি ঘটনায় সাধারণ মানুষই সরাসরি হামলার শিকার হন।
বেলুচিস্তানের সবচেয়ে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, হামলায় তাদের লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তা বাহিনী এবং এতে কয়েক ডজন সেনা নিহত হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বেলুচিস্তানে চলমান বিদ্রোহ দমনে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। অঞ্চলটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা কয়েক দশক ধরে চললেও সাম্প্রতিক এই হামলাগুলোকে সবচেয়ে সমন্বিত ও ভয়াবহ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে পাকিস্তান সরকার আবারও ভারতের বিরুদ্ধে বিএলএ-কে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। তবে ভারত এ ধরনের অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে।
কোয়েটায় এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেন, “যেসব জেলায় হামলা হয়েছে, সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান সম্পন্ন করেছে। হামলাকারীদের আর কোনো উপস্থিতি নেই।” তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রদেশজুড়ে সতর্কতা জোরদারের কথাও জানান।
এই সহিংসতার ঘটনায় বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি না ঘটাতে সংযম ও রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au