পূজা চেরীর বিয়ের গুঞ্জন, ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠান!
ঢালিউড অভিনেত্রী পূজা চেরীর বিয়ে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে নানা আলোচনা। এবার সেই গুঞ্জনে যুক্ত হয়েছে নির্দিষ্ট একটি তারিখ। একাধিক সূত্রের দাবি, আগামী ১৬…
মেলবোর্ন, ৪ ফেব্রুয়ারি- নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মুস্তাকিম মিয়া (১৪)। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধসহ মোট দশজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্য মোতায়েন করা হয়।
নিহত মুস্তাকিম মিয়া সায়দাবাদ এলাকার সৌদি আরবপ্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে। সে স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) এর নাম জানা গেছে। অন্য আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলছিল। এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এসব ঘটনার সময় এলাকায় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও ওঠে। এলাকাটিতে এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন এরশাদ মিয়া।
এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার পরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম, যিনি চায়না নামেও পরিচিত, গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই গুলিতে মুস্তাকিম মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হয়। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যায়।
নিহত শিক্ষার্থীর মা শাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সকালে তার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। সে কোনো সংঘর্ষে জড়িত ছিল না। সেই সময় ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না তাকে গুলি করে। তিনি বলেন, তাদের পরিবার কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত নয় এবং যারা তার সন্তানকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান তিনি।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিমকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে সায়দাবাদ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি বলে তিনি জানান।
এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au