নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৪
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক…
মেলবোর্ন, ৪ ফেব্রুয়ারি- রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী ছেলের প্যারোলে মুক্তি মেলেনি, ফলে বাবার শেষ বিদায়ের মুহূর্তে পরিবারের সামনে তৈরি হলো হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া বাবার লাশই শেষবারের মতো ছেলের সঙ্গে দেখা করাতে নিতে হলো কারাগারের ফটকে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লার চর গ্রামের বাসিন্দা ফুল মিয়া (৬৮) মঙ্গলবার সকালে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তাঁর বড় ছেলে মিলন মিয়া (৪০) একটি রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী। বাবার মৃত্যুর পর আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মিলনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানানো হলেও তা মঞ্জুর হয়নি।
শেষ পর্যন্ত বাবার লাশ কারাগারে নিয়ে গিয়ে ছেলেকে শেষবারের মতো দেখানোর অনুমতি দেয় প্রশাসন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে ফ্রিজিং ভ্যানে করে ফুল মিয়ার লাশ নেওয়া হয় কিশোরগঞ্জ কারাগারে। কারা ফটকে বাবার নিথর দেহ দেখে মিলন মিয়া কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মিলন মিয়া পেশায় ইট-বালুর ব্যবসায়ী। তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থাকলেও দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। পরিবারের দাবি, কোনো মামলায় তাঁর নাম না থাকলেও ২০২৪ সালে ভৈরব থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ওই মামলায় জামিন পেলেও ২৬ জানুয়ারি বিশেষ ক্ষমতা আইনে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে তাঁকে কারাগারেই রাখা হয়।
মিলনের আইনজীবী আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন জানান, বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। আবেদনটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের কাছে পাঠানো হলে রাতে জানানো হয়, প্যারোল দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কারা ফটকে লাশ এনে দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কারাগারে লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় মিলনের চাচা হাজী মতিউর রহমান, ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। হাজী মতিউর রহমান বলেন, মিলন কোনো রাজনৈতিক কমিটিতে ছিল না, কেবল সমর্থন করত। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট মামলাও ছিল না। অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে পরে মামলায় নাম ঢোকানো হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
তিনি আরও বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত আসামিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় বলে শুনেছি। কিন্তু আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বাবার লাশ নিয়েই কারাগারে আসতে হলো। জীবনে এমন দৃশ্য দেখিনি।’
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাবার লাশ দেখে মিলন ডুকরে ডুকরে কেঁদেছেন। জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হলেও সেখানে ছেলের উপস্থিতি সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় প্যারোলে মুক্তি না পেয়ে কারাগারের ফটকেই প্রিয়জনের মুখ দেখার নজির রয়েছে। গত জানুয়ারিতে বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাও স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে না পেরে কারা ফটকেই শেষ দেখা করেছিলেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au