নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৪
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক…
মেলবোর্ন, ৫ ফেব্রুয়ারি- পশ্চিম নাইজেরিয়ার কোয়ারা রাজ্যের দুটি গ্রামে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৬০ জন নিহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, চলতি বছরে দেশটিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সশস্ত্র হামলা। হামলার পর থেকে একটি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী রাজাসহ একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার কোয়ারা রাজ্যের ওরো ও নুকু গ্রামে এই হামলা চালানো হয়। বুধবার বিকেল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানান ওই এলাকার সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ওমর বিও। তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী লাকুরাওয়া এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এখনো কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি।
কাইয়ামা অঞ্চলের রাজনীতিক সাইদু বাবা আহমেদ জানান, হামলাকারীরা গ্রামবাসীদের একত্র করে তাদের হাত পেছনে বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর বাড়িঘর ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন। মরদেহ শনাক্তের পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধান চলছে। অনেক আহত ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জঙ্গলে পালিয়ে গেছেন। গ্রামের ঐতিহ্যবাহী রাজাসহ কয়েকজনের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা জিহাদি গোষ্ঠীর সদস্য এবং তারা আগেও গ্রামে এসে ধর্মীয় বক্তব্য দিত। তারা গ্রামবাসীকে নাইজেরিয়ান রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে শরিয়াহ আইন মেনে চলার আহ্বান জানায়। গ্রামবাসীরা এতে রাজি না হওয়ায় মঙ্গলবারের একটি ধর্মীয় সমাবেশ চলাকালে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৭০ জনেরও বেশি হতে পারে। সংস্থাটি জানায়, অসংখ্য বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দোকানপাট লুট করা হয়েছে। তাদের মতে, এই হামলার পেছনে গুরুতর নিরাপত্তা ব্যর্থতা রয়েছে। অ্যামনেস্টির দাবি, হামলাকারীরা গত পাঁচ মাস ধরে গ্রামবাসীদের হুমকিমূলক চিঠি পাঠিয়ে আসছিল।
কোয়ারা রাজ্যের গভর্নর আবদুলরহমান আবদুলরাজাক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের চাপে পড়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এমন কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে।
কোয়ারা রাজ্যের সীমান্ত নাইজার রাজ্যের সঙ্গে লাগোয়া। সাম্প্রতিক সময়ে এই সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী সম্প্রতি এলাকাটিতে তথাকথিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দাবি করলেও সহিংসতা থামেনি।
নাইজেরিয়া বর্তমানে একাধিক নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। দেশটিতে ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট অন্তত দুটি গোষ্ঠী সক্রিয়। এর একটি বোকো হারাম থেকে উদ্ভূত ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রদেশ, অন্যটি লাকুরাওয়া, যা ইসলামিক স্টেট সাহেল প্রদেশ নামেও পরিচিত। সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, লাকুরাওয়ার শিকড় প্রতিবেশী নাইজারে এবং ২০২৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে নাইজেরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের তৎপরতা বেড়েছে।
এদিকে একই দিনে উত্তর-পশ্চিমের কাটসিনা রাজ্যের ফাসকারি এলাকার ডোমা গ্রামে পৃথক এক হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত সপ্তাহে উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও পৃথক হামলায় আরও অন্তত ৩৬ জন নিহত হন। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে কোয়ারা রাজ্যের কিছু এলাকায় কারফিউ জারি এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সোমবার থেকে স্কুল পুনরায় খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au