কুমিল্লায় শনিপূজা চলাকালীন বোমা বিষ্ফোরণ, আহত অন্তত ৪
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া এলাকায় একটি মন্দিরে শনিপূজা চলাকালে দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে পুরোহিতসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার…
মেলবোর্ন, ৬ ফেব্রুয়ারি- দেশের বেসরকারি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। নতুন করে এক হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ৬৭০ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারি বেতনভাতা পাওয়ার পথ খুলছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি দফায় এমপিওভুক্তির জন্য মোট তিন হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে এক হাজার ৭১৯টিকে যোগ্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত তালিকায় রয়েছে ৪৭১টি নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩৫টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৪৫টি উচ্চমাধ্যমিক কলেজ। পাশাপাশি ৭৮টি দাখিল, ২০২টি আলিম ও ৩৫টি ফাজিল মাদ্রাসা রয়েছে তালিকায়। এছাড়া ৭৮টি স্নাতক (পাস) কলেজ, ২৩২টি স্নাতক (সম্মান) কলেজ এবং ৩৫টি স্নাতকোত্তর কলেজকেও এমপিওভুক্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
তবে এই এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। কয়েক শ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে শিক্ষা প্রশাসনে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানভেদে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। কোথাও কোথাও শিক্ষকপ্রতি ১০ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংখ্যা বেশি, সেখানে ঘুষের অঙ্কও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এই লেনদেনের পরিমাণ অর্ধকোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলেও জানা গেছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তালিকাভুক্ত অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী নেই এবং পাঠদান কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে অনেক প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
জানা গেছে, এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হয় গত ১৪ জানুয়ারি এবং শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি। এরপর মাত্র আট কর্মদিবসের মধ্যেই তিন হাজার ৬১৫টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দিনে গড়ে ৪৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করা বাস্তবসম্মত নয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগেই সমঝোতা ছিল এবং আবেদন জমা দেওয়ার পরপরই সেগুলো অনুমোদনের তালিকায় চলে আসে। অন্যদিকে অনেক প্রতিষ্ঠান যথাযথ যাচাই ছাড়াই বাদ পড়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এমপিওভুক্তি কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় বাড়বে ৬৭০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪৭১টি নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ব্যয় হবে ১৮৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ১৪৫টি উচ্চমাধ্যমিক কলেজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। ২৩২টি স্নাতক (সম্মান) কলেজের জন্য বরাদ্দ থাকবে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। এছাড়া ৬২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, ১৩৫টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১০২ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং স্নাতক (পাস) কলেজগুলোর জন্য ৩৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নাকচ করেছেন। তাঁদের দাবি, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচন করা হয়েছে। কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম হয়নি বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তবে অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মধ্যেই নতুন করে এমপিওভুক্ত হতে যাওয়া এক হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে শিক্ষা অঙ্গনে আলোচনা ও কৌতূহল বাড়ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au