চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৬ ফেব্রুয়ারি- সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ‘স্লেজিং’ নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে লোকপ্রশাসন ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৬ জন আহত হন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে অন্তত চারজন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁরা হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী, প্রভাষক আব্দুল বাসিত, সহকারী প্রক্টর ওমর ফারুক এবং জাহাঙ্গীর আলম। তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী ও প্রভাষক আব্দুল বাসিতকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
বাংলা বিভাগের আহত শিক্ষার্থীরা হলেন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাহবুবুর রহমান, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সোহানুর রহমান, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শাকিল শাহরিয়ার, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নওশাদ খান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. রাহুল এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের যশমন্ত মল্লিক। তাঁদের মধ্যে সোহানুর রহমান ও যশমন্ত মল্লিককে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
অন্যদিকে লোকপ্রশাসন বিভাগের আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের রেদুয়ান করিম, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাজিদ আবরার, ফারদিন ইসলাম ও মাহফুজ, এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নোহান ইমতিয়াজ ও ইহসানুল হক। এদের মধ্যে ফারদিন ইসলাম ও সাজিদ আবরার বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে বাংলা বিভাগ ও লোকপ্রশাসন বিভাগের মুখোমুখি লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে ব্যাট করে বাংলা বিভাগ লোকপ্রশাসন বিভাগকে ১৪৯ রানের লক্ষ্য দেয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দ্বিতীয় ইনিংস চলাকালে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের খেলোয়াড়েরা আপত্তি জানান। এ নিয়ে মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২০ মিনিট পর পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার খেলা শুরু হয়।
তবে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে মাঠের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থানরত বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিক থেকে ‘স্লেজিং’ করা হলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। মাঠে থাকা অপর পক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুতই দুই বিভাগের খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম বলেন, তাঁদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা মাঠের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থান করছিলেন এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে এসে আক্রমণ চালান। তাঁর দাবি, তাঁদের শিক্ষার্থীরা মাঠে নেমে মারামারি শুরু করেনি। তিনি বলেন, আগেও লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যারা আহত হয়েছে তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং এ ঘটনায় খেলা পরিচালনা কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, ফাইনাল খেলা হওয়ায় তিনি মাঠে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের বিভাগের এক খেলোয়াড়কে স্লেজিং করা হলে ওই খেলোয়াড় প্রতিক্রিয়ায় কিছু বলেছিল। এরপর বাংলা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই খেলোয়াড়কে মারধর শুরু করে। তা দেখে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। তিনি সংঘর্ষ থামাতে গেলে চোখে ঘুষি লাগায় আহত হন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান জানান, প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। তিনি বলেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আচরণ কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশাসনকে গভীরভাবে ভাবতে হবে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক এবং খেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. এছাক মিয়াকে সভাপতি করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মো. এছাক মিয়া বলেন, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত না মানায় শুরুতে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে স্লেজিংকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষই। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au