নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৪
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক…
মেলবোর্ন, ৬ ফেব্রুয়ারি- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ে একটি অবৈধ কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলার থাংস্কু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিস্ফোরণের পর খনির মুখে ধস নেমে ভেতরে আটকা পড়েন শ্রমিকরা, যাদের বেশিরভাগই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে অবৈধভাবে ‘র্যাট-হোল’ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের কাজ চলছিল। কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও প্রাথমিকভাবে ডিনামাইট ব্যবহারের সন্দেহ করা হচ্ছে।
রাজ্য পুলিশের ডিজিআই নোংরাং বলেন, কয়লাখনিটি বেআইনিভাবে পরিচালিত হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের ফলে খনির প্রবেশপথ ধসে পড়ে এবং বের হওয়ার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভেতরে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
‘র্যাট-হোল’ খনন বলতে পাহাড়ের ঢালে গভীর উল্লম্ব খাদ তৈরি করে সেখান থেকে সরু সুড়ঙ্গের মাধ্যমে কয়লা ও অন্যান্য খনিজ উত্তোলনের পদ্ধতিকে বোঝায়। এই ধরনের খননকে দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক ও অবৈজ্ঞানিক বলে আখ্যায়িত করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০১৪ সালে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের একটি ফেডারেল পরিবেশ আদালত মেঘালয়ে র্যাট-হোল খননের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আদালত ওই রায়ে এ ধরনের খননকার্যকে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং শ্রমিকদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাজ্যজুড়ে, বিশেষ করে পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় এলাকায় এই অবৈধ খনন কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
এক বিবৃতিতে জেলা পুলিশ প্রধান বিকাশ কুমার বলেন, বিস্ফোরণটি সম্ভবত ডিনামাইট ব্যবহারের কারণেই ঘটেছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ফরেনসিক তদন্ত চলছে। তিনি জানান, বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরে আগুন ধরে যায় এবং বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা। তিনি বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই দুর্ঘটনায় শোক জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
এই দুর্ঘটনা আবারও মেঘালয়ে অবৈধ কয়লাখননের ঝুঁকি ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ব্যর্থতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র : আল-অ্যারাবিয়া
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au