নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৪
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক…
মেলবোর্ন,৭ ফেব্রুয়ারি- মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তিনজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের পর নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে রোববার জাতীয় নির্বাচনে যাচ্ছে থাইল্যান্ড। টানা রাজনৈতিক অস্থিরতা, আদালতের হস্তক্ষেপ এবং জোটভাঙনের প্রেক্ষাপটে এই ভোটকে দেশটির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে গতবার সর্বাধিক ভোট পাওয়া জনপ্রিয় সংস্কারপন্থী পিপলস পার্টি এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা রক্ষণশীল শিবিরের মধ্যে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রার রাজনৈতিক প্রভাবও এই নির্বাচনে বড় একটি বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির পরবর্তী সরকারের সামনে একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ, যা গত বছর দুবার প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছিল। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বহুজাতিক সাইবার প্রতারণা চক্র দমন এবং দুর্বল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করাও নতুন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হবে।
থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বর্তমানে মন্থর। পর্যটন খাত দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হলেও কোভিড-পূর্ব সময়ের পর্যটক সংখ্যা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। অন্যদিকে দ্রুত অগ্রসরমান ভিয়েতনাম ক্রমেই বেশি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে, যা থাইল্যান্ডের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারের নির্বাচনেও কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। সে ক্ষেত্রে তিন বছরেরও কম সময় আগে অনুষ্ঠিত আগের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। সেই নির্বাচনে পিপলস পার্টির আগের সংস্করণ সর্বাধিক ভোট ও আসন পেলেও তাদের প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেওয়া হয়নি এবং পরে দলটি বিলুপ্ত করা হয়।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া থাকসিনপন্থী ফেউ থাই পার্টি তৃতীয় স্থান পাওয়া রক্ষণশীল ভুমজাইথাই পার্টির সঙ্গে জোট গঠন করে সরকার গড়ে। তবে আদালতের আদেশে ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী অপসারিত হন। এরপর থাকসিনের কন্যা পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী হলেও তাকেও সাংবিধানিক আদালতের রায়ে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। সবশেষ গত সেপ্টেম্বর সংসদ তার সাবেক জোটসঙ্গী আনুতিন চার্নভিরাকুলকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করে, যিনি দুই বছরে দেশটির তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী।
রাজনীতি বিশ্লেষক নাপোন জাতুসরিপিতাক বলেন, থাইল্যান্ডে এখন নির্বাচনের ফলাফল কার্যত সরকার গঠনের প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিকভাবে অস্থির একটি দেশে এটি কোনো ইতিবাচক লক্ষণ নয়।
থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে সামরিক অভ্যুত্থান, রক্তক্ষয়ী সড়ক আন্দোলন এবং আদালতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পাঁচ বছর সামরিক শাসন চলে এবং সেনাবাহিনী প্রণীত সংবিধানের মাধ্যমে এমন কাঠামো তৈরি করা হয়, যেখানে অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা থাকে।
এই বাস্তবতায় তরুণ ভোটারদের একটি অংশ পরিবর্তনের দাবি তুলছেন। পিপলস পার্টির সমর্থক ২৬ বছর বয়সী প্যাচারি ফাদুংসুকসিরা বলেন, তিনি এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা চান যা আরও ন্যায্য এবং সত্যিকার অর্থে জনগণের কণ্ঠস্বরকে প্রতিনিধিত্ব করে।
জনমত জরিপে পিপলস পার্টি এগিয়ে রয়েছে এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটারের সমর্থন পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আনুতিনের ভুমজাইথাই পার্টি। বিশ্লেষকদের মতে, ক্যানাবিস বৈধকরণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এই রক্ষণশীল নেতা আবারও ফেউ থাই পার্টির সঙ্গে জোট গঠন করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করতে পারেন।
একসময় আধুনিক থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত ফেউ থাই পার্টির জনপ্রিয়তা এবার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কম্বোডিয়া ইস্যু সামলানোর পদ্ধতি নিয়ে আদালতের রায়ে পেতংতার্ন অপসারিত হওয়া এবং থাকসিনের দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড দলটির ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
রোববারের ভোটে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভোটাররা নীতিগতভাবে সংবিধান সংস্কার চান কি না, সে বিষয়ে মতামত জানাবেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সংস্কার প্রস্তাব এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো অক্ষত থাকলে এই নির্বাচন থেকে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন আসা কঠিন হতে পারে। তবুও দীর্ঘ অস্থিরতার পর থাইল্যান্ডের জনগণ নতুন একটি পথের খোঁজে আবারও ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছে।
সুত্রঃএএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au