রাহুল আনন্দের কণ্ঠে বয়ে চলা নদীর মতো গান—এক আবেগঘন সন্ধ্যা। ছবি: মিতা চৌধুরীর ফেসবুক থেকে
মেলবোর্ন, ৮ ফেব্রুয়ারি: জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘জলের গান’-এর সংগীতে ভরে উঠেছিল মেলবোর্নের এক স্মরণীয় সন্ধ্যা। শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সাউথ ওকলেই কলেজে অনুষ্ঠিত বিশেষ পরিবেশনায় দর্শকদের মাতৃভূমির ঘ্রাণ ও স্মৃতির আবেশে ভাসিয়ে নেয় দলটি।
গত ১৪ বছর ধরে নদীর মতো অবিরাম বয়ে চলা ‘জলের গান’-এর প্রতিষ্ঠাতা রাহুল আনন্দ চারুকলার ছাত্রজীবন থেকেই গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিজের পথ তৈরি করেছেন। মঞ্চে তিনি তাঁর সংগীতযাত্রার গল্প শোনান এবং দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন সৃষ্টির নেপথ্যের অনুভূতি।
থিয়েটারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রাহুল আনন্দকে প্রকৃতির ধ্বনি ও রূপকধর্মী সুর নির্মাণে বিশেষ দক্ষতা দিয়েছে। বৃষ্টির শব্দ, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের মতো অনুষঙ্গ সুরে মিশিয়ে তিনি যে সাউন্ডস্কেপ তৈরি করেন, তা দর্শকদের অন্যরকম এক আবেশে নিয়ে যায়। বিশ্বের নানা প্রান্তের অনুপ্রেরণায় তৈরি এই সুরভাষা ব্যান্ডটির সংগীতকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

সাউথ ওকলেই কলেজে দর্শকের উচ্ছ্বাস—‘জলের গান’ উপহার দিল স্মরণীয় রাত। ছবি মিতা চৌধুরীর ফেসবুক থেকে
দ্য এশিয়ান এইজ-এর স্টাফ রিপোর্টার আনান্না সুগ্রার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে রাহুল আনন্দ তাঁর দীর্ঘ সংগীতযাত্রার কথা তুলে ধরেন—দল গঠনের শুরুর দিন, থিয়েটার থেকে পাওয়া শিল্পবোধ এবং ধারাবাহিকভাবে নতুন সাউন্ড তৈরির অভিজ্ঞতা।
সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে দর্শক প্রবেশের পর রাত ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে পরিবেশনা। সাউথ ওকলেই কলেজের মিলনায়তনে প্রবাসী বাঙালি দর্শকদের ভিড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। অনেকের কাছে এই আয়োজন হয়ে ওঠে প্রবাসে থেকেও মাতৃভূমির সঙ্গে সংযোগের এক আবেগঘন মুহূর্ত।