নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৪
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক…
মেলবোর্ন ৯ ফেব্রুয়ারি- আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র নিরাপত্তা উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর এক জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, ৫০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোটার মনে করছেন, নির্বাচনের সময় তারা নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারেন। এদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি এবারের ভোটগ্রহণকে অনিরাপদ অথবা অত্যন্ত অনিরাপদ বলে বিবেচনা করছেন।
রোববার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে অনুশীলন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা বাংলাদেশের নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিজিএস এসব তথ্য তুলে ধরে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জরিপে অংশ নেওয়া সংখ্যালঘু ভোটারদের মাত্র ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ নিজেদের সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করছেন। বিপরীতে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটগ্রহণকে অনিরাপদ বা অত্যন্ত অনিরাপদ হিসেবে দেখছেন।
সিজিএস জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ৫০৫ জন সংখ্যালঘু এই জরিপে অংশ নিয়েছেন। জরিপে ভোটদানের আচরণ, রাজনৈতিক সচেতনতা, নিরাপত্তাবোধ এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, ভোটে অনিয়মের ঘটনা ঘটলে ৫৭ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জানাবেন বলে জানিয়েছেন। ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করবেন এবং ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ নিরাপত্তা বাহিনীকে বিষয়টি জানাতে আগ্রহী।
তবে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে অনিচ্ছুক। জরিপে দেখা যায়, ২০ দশমিক ৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা অনিয়ম হলেও কিছু করবেন না। ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রতিবাদ জানাবেন, ১২ দশমিক ৫ শতাংশ গণমাধ্যমের দ্বারস্থ হবেন এবং ১১ দশমিক ২ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক হয়রানি বা হুমকির ঘটনায় অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রেও অনীহার চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি যেখানে অভিযোগ করার প্রয়োজন পড়েছে। তবে যারা হুমকি বা সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২২ শতাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন এবং অভিযোগ করেননি।
অভিযোগ জানালেও তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিক পরিসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ নির্বাচন কমিশনে এবং ১ দশমিক ৫ শতাংশ থানায় অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ না জানানোর পেছনে ভবিষ্যতে আরও বিপদের আশঙ্কাকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। এ ক্ষেত্রে ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ মনে করেন, অভিযোগ করলে তারা আরও ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার আইনি ব্যবস্থার ওপর আস্থার অভাবের কথা বলেছেন।
রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নীরব থাকার কারণ হিসেবে ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ পরিচয় প্রকাশ হয়ে সামাজিক অপমান বা কলঙ্কের আশঙ্কার কথা জানান। ২৯ দশমিক ৭ শতাংশের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবার, সমাজ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যায় না।
এ ছাড়া ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার আইনি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ২০ দশমিক ২ শতাংশ মনে করেন, প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া সম্ভব নয়।
যারা নির্বাচনি অনিয়ম প্রত্যক্ষ করেও কোনো পদক্ষেপ নেননি, তাদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির আশঙ্কাই তাদের নীরব থাকার প্রধান কারণ। একই সঙ্গে ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ পুলিশি হয়রানি বা আইনি জটিলতার ভয়ও উল্লেখ করেছেন।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার বিশ্বাস করেন না যে অভিযোগ করলেও কোনো বিচার বা প্রতিকার পাওয়া যাবে। অন্যদিকে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au