নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৪
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক…
মেলবোর্ন ৯ ফেব্রুয়ারি- থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে থেকে জয় দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চারনাভিরাকুল। রোববার ভোটগ্রহণ শেষে টেলিভিশনে প্রচারিত আংশিক ফলাফলে তার নেতৃত্বাধীন ভুমজাইথাই পার্টি এগিয়ে থাকার পর তিনি এই দাবি করেন। তবে তিনটি প্রধান দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কোনো দলের এককভাবে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এতে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভোটের দিন ব্যাংককের একটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট গণনার সময় নির্বাচন কর্মকর্তাদের ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। সন্ধ্যা নাগাদ প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে ভুমজাইথাই পার্টি এগিয়ে থাকায় ব্যাংককে দলের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অনুতিন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা প্রথম স্থান অর্জন করতে যাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে। আজকের এই বিজয় সব থাই নাগরিকের—তারা আমাদের ভোট দিন বা না দিন, তাতে কিছু আসে যায় না।’
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আকস্মিকভাবে এই নির্বাচনের ঘোষণা দেন অনুতিন। সে সময় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে তীব্র সীমান্ত উত্তেজনা চলছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আবেগকে কাজে লাগাতেই এই সময় নির্বাচন ডাকার সিদ্ধান্ত নেন রক্ষণশীল এই নেতা। তখন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন ১০০ দিনেরও কম সময়।
কম্বোডিয়া সংকটের প্রেক্ষাপটে জনপ্রিয়তাবাদী পেউ থাই পার্টির প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন শিনাওয়াত্রা অপসারিত হওয়ার পর অনুতিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তাঁর মেয়ের অপসারণের কয়েক দিনের মধ্যেই কোটিপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রা কারাদণ্ড ভোগ করতে যান, যা থাই রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তোলে।
রোববার থাইল্যান্ডজুড়ে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়। স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা থেকেই প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত আংশিক ফলাফলে দেখা যায়, প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফল গণনা শেষে ভুমজাইথাই পার্টি স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রগতিশীল পিপলস পার্টি, আর তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে পেউ থাই পার্টি।
জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, পিছিয়ে থাকলেও থাকসিন-সমর্থিত পেউ থাই পার্টি পুরোপুরি প্রতিযোগিতার বাইরে চলে যায়নি। ভোট দেওয়ার পর উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের বুরিরাম সিটিতে সাংবাদিকদের অনুতিন বলেন, ‘আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যা করার, সবই করেছি। এখন জনগণের ওপরই সিদ্ধান্ত।’
প্রগতিশীল পিপলস পার্টি নির্বাচনে কাঠামোগত সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচারণা চালায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটানোর বার্তা দিয়ে তারা নির্বাচনী মৌসুমজুড়ে বেশির ভাগ জরিপে এগিয়ে ছিল।
ব্যাংককের রাজনৈতিক বিশ্লেষক থিতিনান পংসুধিরাক বলেন, ‘এই নির্বাচন মূলত একটি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে থাইল্যান্ডকে—দেশটি কি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে সামনে এগোতে পারবে?’ তিনি যোগ করেন, ‘আমার প্রাথমিক ধারণা, দুঃখজনক হলেও, তা সহজ হবে না।’
ভোট শুরুর পর রাজধানী ব্যাংকজুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ধারাবাহিক উপস্থিতি দেখা যায়। ৪৪ বছর বয়সী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সুয়াত কিয়াতসুয়ান বলেন, ‘আমি আর একই মানুষদের দেখতে চাই না। আগের মতো ভোট দিলে কিছুই বদলাবে না। আমরা অনেক দিন ধরেই কোথাও এগোচ্ছিলাম না।’
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au