নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৪
মেলবোর্ন, ২১ জুন- পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা পুরো অঞ্চলকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কয়েক…
মেলবোর্ন, ৯ ফেব্রুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের বিতর্কে এবার বড় ধাক্কা খেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। টানা সমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি।
ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি জানার পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করার অভিযোগে ম্যাকসুইনির ভূমিকা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক চলছিল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার নিজেই এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে আগেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ম্যাকসুইনি স্বীকার করেছেন যে ম্যান্ডেলসনের নিয়োগের আগে পরিচালিত যাচাই ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার তদারকিতে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তবে এরপরও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ওই নিয়োগের পরামর্শ দেওয়ার দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় আমার।”
২০২৪ সালে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে প্রকাশ পায়, সাবেক এই মন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন, এমনকি যৌন অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার পরও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। এই তথ্য সামনে আসতেই যুক্তরাজ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে।
চাপের মুখে গত ২ ফেব্রুয়ারি ম্যান্ডেলসন লেবার পার্টির সদস্যপদ ছাড়েন এবং হাউস অব লর্ডস থেকেও স্থায়ীভাবে অবসরের ঘোষণা দেন। এরপরও বিতর্ক থামেনি। লেবার পার্টির একাধিক এমপি অভিযোগ করেন, সবকিছু জানার পরও প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন।
পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইন–সংক্রান্ত বিপুল নথি, ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়। সেসব নথিতে দেখা যায়, ২০০৮ সালে আদালতে অভিযুক্ত হওয়ার পরও এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। একটি নথিতে এমনকি অভিযোগ করা হয়, ব্রিটিশ মন্ত্রী থাকাকালে তিনি এপস্টেইনের কাছে যুক্তরাজ্যের সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছিলেন।
এসব অভিযোগের পর ব্রিটিশ পুলিশ ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অসদাচরণের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদূত নিয়োগের যাচাই প্রক্রিয়ার সময় এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্কের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। তবে সে সময় ম্যান্ডেলসন তাদের সম্পর্কের গভীরতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সংসদে স্টারমার আবারও ক্ষমা চান এবং লেবার এমপিদের ক্ষোভ ও হতাশা তিনি বোঝেন বলে জানান।
তবে এত কিছুর পরও বিতর্ক কমেনি। লেবার পার্টির কয়েকজন এমপি প্রকাশ্যেই স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই সংকট স্টারমারের নেতৃত্বকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে মর্গান ম্যাকসুইনির পদত্যাগকে স্টারমারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৪৮ বছর বয়সী এই আইরিশ রাজনীতিক ২০২০ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে স্টারমারের জয়ের নেপথ্য কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির নিরঙ্কুশ জয়ের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাকসুইনির বিদায়ের মধ্য দিয়ে এপস্টেইন–ম্যান্ডেলসন বিতর্ক নতুন মোড় নিল এবং এটি ব্রিটিশ সরকারের জন্য আরও দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au