ভোটের তিন দিন আগে পটুয়াখালীতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ ফেব্রুয়ারি- ভোটের দিন ঘনিয়ে আসতেই আবারও সহিংসতায় উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এতে করে নির্বাচনকে ঘিরে অস্থির, উত্তেজনাপূর্ণ ও সহিংস পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওইদিন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আলাদাভাবে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের স্লোগান পাল্টাপাল্টি হতে থাকে। এরই মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে তা লাঠিসোঁটা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে আহত অন্তত ৪০ জনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও কোস্ট গার্ড মোতায়েন করা হয়। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেও আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা দাবি করেন, বিএনপির কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য জামায়াতই সংঘর্ষ উসকে দিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, আহত হওয়ার ঘটনা এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় আসন্ন নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় ভোটের দিন সামনে রেখে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানাচ্ছেন।